বিএনপিকে ঘরছাড়া করেছে আইভী

নারায়ণগঞ্জ মেইল: নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয় ভেঙে তাদেরকে ঘরছাড়া করেছে সাবেক সিটি মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী। সেই থেকে এখন পর্যন্ত আর নতুন কার্যালয় পায়নি বিএনপি। কার্যালয় না থাকায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা যাযাবরের মতো যে যেখানে পারছেন অফিস খুলে বসছেন। নির্দিষ্ট ঠিকানা তাদের হচ্ছে না। এ নিয়ে মাঝে মাঝে আফসোস করতে দেখা যায় দলের সিনিয়র নেতাদের।

দীর্ঘ প্রায় নয় বছর ধরেই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির স্থায়ী কোনো ঠিকানা তথা কার্যালয় নেই। অস্থায়ী কিংবা নামকাওয়াস্তে ব্যক্তিগত কার্যালয় দিয়েই চলছে তাদের কার্যক্রম। সেইসঙ্গে মূল দলের কার্যালয় না থাকায় অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলোও অস্থায়ী অবস্থায়ই সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০০৯ সালে তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা থেকে দোকান হিসেবে ইজারা নিয়ে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ওই কার্যালয়েই বিএনপির কার্যক্রম চলে। তৎকালীন দায়িত্বে থাকা নেতারা সেই কার্যালয়ে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন। সেইসঙ্গে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর থাকতো কার্যালয়টি।

২০১৬ সালে তৎকালীন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী বিএনপি’র কার্যালয় থাকা ভবনটি ভেঙে ফেলার ঘোষণা দিলে আদালতের সমনাপন্ন হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কার্যালয় নিয়ে মামলায় হেরে যাওয়ার পর ২০১৭ সালের ১০ মার্চ বিএনপির কার্যালয় ভবন ভেঙে ফেলা হয়।

এরপর থেকেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নতুন করে আর কার্যালয় নিতে পারেনি।বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পদে থাকা নেতারা কেউই দলীয় স্থায়ী কার্যালয় নিয়ে কোনো কথা বলেন না। সবাই যার যার মতো করে নিজেদের অফিস কিংবা চেম্বারকেই দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। তাই তাদের স্থায়ী কোনো ঠিকানার আর দেখা মিলছে না।

তবে নতুন কার্যালয়ের বিষয়ে আশার বাণী শুনিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কার্যালয় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা খুব শীঘ্রই কার্যালয়ের ব্যবস্থা করবো। দোতলায় না পারলেও ছয়তলায় কার্যালয় বানানোর ব্যবস্থা করা হবে।