আ:লীগের সভাপতি কাশিপুরের চেয়ারম্যান, নিরব বিএনপি জামাত এনসিপি

নারায়ণগঞ্জ মেইল: সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের বিতর্কিত  ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদ এখনো পরিচালিত হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতার হাতেই। এনিয়ে রহস্যজনক ভূমিকায় রয়েছেন স্থানীয় বিএনপি,  জামাত ও এনসিপি নেতারা।

কাশীপুর ৩ নং আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের হত্যা মামলার আসামী মেম্বার শামীম আহাম্মদ স্থানীয় বিএনপির কতিপয় নেতাদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে কাশীপুর ইউনিয়নের নরসিংপুর এবং উত্তর নরসিংপুর এলাকায় বহু খালি জায়গা তথা খাস জমি থেকে শুরু করে ওয়ারিশ জমি, বেজাল জমি, নাল জমি, নাম মাত্র মূল্যে জোরপূর্বক জমি দখল, চাঁদাসহ নানা অপকর্ম করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যান কুখ্যাত ভমিদস্যু কাশীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন ওরফে ডাকাত গেসু এবং তার ছেলে কাশীপুর ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামীম আহম্মেদ।ভূমিদস্যুতা করে এক সময়ের ডাকাত গেসুর পরিবার বনে যান কোটি কোটি টাকার মালিক।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গডফাদার শামীম ওসমান ও কাশীপুরের প্রয়াত চেয়ারম্যান এম. সাইফুল্লাহ বাদলের সরাসরি শেল্টার থাকায় মেম্বার শামীম দাপটে অসংখ্য সাধারণ মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, এক সময় ভূমিদস্যু গিয়াস ভাত খেতে ভাত পেতো না। ভাতের অভাবে সে ডাকাতি করে সংসাদ চালাতো। ছিলো ডাকাত সর্দার। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা আসার পর শত শত কোটি টাকার মালিক মনে যায় গেসু পরিবার। চর নরসিংপুর এবং উত্তর নরসিংপুর তথা বক্তাবলীর রাজাপুর থেকে শুরু করে সেখানে কয়েকটি এলাকায় বিগত দিনে তাণ্ডব চালিয়েছেন শামীম মেম্বার।

এ ছাড়া ছাত্র আন্দোলনে ৫ আগষ্ট সৈরাচার আওয়ামী সরকারের পতনের ছাত্র-জনতার রক্ত ও আদর্শের সাথে বেঈমানি করে বিএনপির কিছু কথিত নেতাকর্মীদের শেল্টারে দিব্বি নিশ্চিতে রয়েছে এই ডাকাত গেসু পরিবার। কথিত আছে, কাশীপুর ইউনিয়ন বিএনপির কতিপয় নেতাদের ত্রিশ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়েছেন শামীম আহাম্মদ।

এদিকে বিগত দিনে আওয়ামী লীগের দেওয়া বিএনপি বিরোধেী প্রতিটা কর্মসূচি ও হরতালে কাশীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যে হরতাল বিরোধী মিছিল হয়েছে তাতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আইয়ূব আলীর পাশে হরতাল বিরোধী প্রতিটা মিছিলে দল বল নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা শামীম মেম্বার দাড়ি টুপি পাঞ্জাবী-পায়জামা পড়ে দাপটের সাথে অংশ গ্রহণ করতেন। তার বাবা আওয়ামী লীগ নেতা গেসুসহ মিছিল মিটিং এ থাকতেন।  

এ ছাড়া গিয়াস উদ্দিন ও শামীম মেম্বার ১৮ জুলাই ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শামীম ওসমানের সাথে রাইফেল ক্লাবে বসে ছিলেন মিটিং এ এটেন্ট করেছেন বলে জানিয়েছে সূত্র। কিন্তু বর্তমানে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের এই শামীম মেম্বার এখন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসে গেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের এই ১৬ বছবের শাসনামলের সব সময় এমপি শামীম ওসমান, এমপি সেলিম ওসমান, প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমানের পুত্র আজমেরী ওসমান ও শামীম পুত্র অয়ন ওসমানের নাম ব্যবহার এবং রাইফেল ক্লাবের সেই কুখ্যাত রাজাকারপুত্র কাজলের নাম ব্যবহার করে ভূমিদস্যুতা, গ্যাস চুরি, বিদ্যুৎ চুরি, ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজিসহ সকল অপরাধ যেন নিত্যকার কর্মকাণ্ডে পরিনত হয়েছিল।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কাশীপুর ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা গেসু পরিবারের অত্যাচারের হাত থেকে মুক্তি পাবে এমন প্রত্যাশা থাকলেও পরবর্তীতে  ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার শামীম আহাম্মদ   ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়ে আরো দাপুটে হয়ে উঠেছে। বিএনপির নেতাদের সাথে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে তাকে। সর্বশেষ ২ মে কাশিপুর খাল খনন কর্মসূচিতে জেলা ও ফতুল্লা থানা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় শামীম মেম্বারকে। কর্মসূচিতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যারাও উপস্থিত থাকলেও একাধিক মামলার পলাতক আসামী শামীমকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

বিতর্কিত আওয়ামী লীগের নেতাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন জানান, আমি যোগদান করার আগে থেকেই তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। তাই বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের হত্যা মামলার পলাতক আসামী হলে বিষয়টি আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জানাবো। পরবর্তী সিদ্ধান্ত সেখান থেকে দেয়া হবে।