ডোপ টেস্ট করে বিএনপি’র সকল কমিটি দেয়ার দাবি
নারায়ণগঞ্জ মেইল: মাদকের ভয়াল থাবা থেকে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও সকল অঙ্গ সংগঠনের কমিটি প্রদানের পূর্বে ডোপ টেস্ট করে কমিটি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জের তৃণমূল নেতাকর্মীরা, যাতে করে মাদকাসক্ত কোনো নেতৃত্ব তৈরি না হয়। বিএনপির আগামীর নেতৃত্ব যাতে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে সে লক্ষ্যে ডোপ টেস্টের বিকল্প নেই বলে মনে করেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নারায়ণগঞ্জ বিএনপির একাধিক তৃণমূল কর্মী জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি ও অগ্রসংগঠনের বর্তমান কমিটির অনেক নেতাই মাদকাসক্ত। যারা মাদক সেবন করেন তাদের নেতৃত্বে কমিটি দেয়া হলে সেই কমিটির পরবর্তী নেতৃত্বও মাদকাসক্ত তৈরি হবে। তাই আগামীতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কমিটি প্রদানের পূর্বে যাতে ডোপ টেস্ট করা হয়। এতে করে মাদকাসক্ত লোকজন নেতৃত্বে আসতে পারবে না।
সূত্রে প্রকাশ, মাদকাসক্তি এক ভয়াবহ মরণব্যাধি। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে যে সকল সমস্যা বিদ্যমান তার একটি অন্যতম সমস্যা হচ্ছে মাদকের ভয়াল থাবা। দিন দিন মাদকের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। নিষিদ্ধ জগতে অস্ত্রের পর মাদকই সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা। বর্তমানে দেশের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে মাদকের কেনাবেচা হয় না। শহর থেকে শুরু করে গ্রামেও এটি সহজলভ্য।
বাংলাদেশের যুবসমাজের একটি বিরাট অংশ মাদকের করালগ্রাসে নিমজ্জিত। দিনদিন যুবসমাজের মাদকের প্রতি আসক্ত হওয়ার প্রবণতা বেড়েই চলেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৭০ লাখেরও বেশি। যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশই হচ্ছে শিশুকিশোর ও তরুণ-তরুণী।
বিশাল সংখ্যক মাদকাসক্তের মধ্যে আবার প্রায় ৫৯ দশমিক ২৭ শতাংশ শিশু-কিশোর সঙ্গদোষ ও বন্ধুবান্ধবদের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে, ৩৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ কৌতূহলবশত হয়ে মাদক সেবনের মাধ্যমে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে।মাদক সেবনে মানুষের শারীরিক ও মানসিক উভয়প্রকার ক্ষতিসাধন হয়। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির মস্তিষ্ক ও শ্বাসযন্ত্রের কার্যক্ষমতা দিন দিন কমতে থাকে। এসব জীবন বিধ্বংসী ক্ষতিকারক দ্রব্য সেবনের ফলে যুবসমাজের সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটছে। এরই পরিণাম স্বরূপ ছেলেমেয়ের হাতে মা-বাবা খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, রাহাজানি এখনকার নৈমিত্তিক ঘটনা।
