গণহত্যার আসামি কাশিপুরের চেয়ারম্যান শামীমের খুঁটির জোর কোথায় ?

নারায়ণগঞ্জ মেইল: নানা বিতর্কের পরও বহাল তবিয়তে আছেন কাশীপুর ইউনিয়ন ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মেম্বার শামীম আহাম্মদ। স্থানীয় বিএনপি কতিপয় নেতাদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার পাশাপাশি বিএনপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও দেখা যাচ্ছে শামীম আহাম্মদকে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর চর কাশীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ নরসিংপুরের সাধারণ মানুষ শামীম পরিবারের অত্যাচার থেকে মুক্তি পাবে এমন প্রত্যাশা থাকলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ায় এখন অস্বস্তিতে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের হত্যা মামলা ছাড়াও শামীমের বিরুদ্ধে রয়েছে চাঁদাবাজী, ভূমিদস্যুতা, সন্ত্রাসী বাহিনীসহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত।

ক্ষমতার পালা বদলেও থেমে নেই শামীম বাহিনীর রাজত্ব। আওয়ামী লীগ সরকার আমলের মতই এখনো দাপুটে শামীম মেম্বার।  তাই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে, শামীমের খুঁটির জোর কোথায় ?

জানাগেছে, আওয়ামী সরকারের পতনের পর কাশীপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ  সর্মথিত চেয়ারম্যান মেম্বারগণ যখন বির্তকিত ভূমিকার জন্য আত্মগোপনে  তখন কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেয় বিএনপি নেতারা এবং বিএনপি সর্মথিত ২ জন মেম্বাররা ৷  ঐ সময় বিএনপির নেতারা ইউনিয়ন পরিষদের অফিস রুমে দলীয় লোকজন নিয়ে দখল করে।  তখন কার সময় তাদের কে সার্বিক সহযোগীতা করতে দেখা গেছে, পরিষদ সচিব আওলাদ হোসেনকে।

পরর্বতিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিএনপি নেতাদের সাথে সমঝোতা করে ধীরে ধীরে আওয়ামী মেম্বারগণ ইউনিয়ন পরিষদে আসতে শুরু করেন ৷ তবে কে হবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সেটা নিয়ে চলে বৈঠক।  ঐ সময় কয়েক জন ছাড়া সব মেম্বার পরিষদে উপস্থিত ছিলেন এবং বিএনপি নেতাদের সাথে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ৷ তবে সেই মুহূর্তে প্যানেল চেয়ারম্যান শামীম মেম্বার আতংকে ও নিরাপওার কারনে পরিষদ ভবনে পাশের গোডাউন রুমে অবস্থান করতে দেখা গেছে ৷ তাকে বিএনপি নেতারা স্বৈরাচারের দোসর বলছিলেন ৷

জানা গেছে তখন বিএনপি সর্মথিত ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার খোকন সর্দার কে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যন করার প্রস্তাব আসে ৷ কিন্ত এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের জরুরী ,জন্ম সনদ মৃত্যু সনদ ও ট্রেড লাইসেন্স আওয়ামী লীগ নেতা শামীম মেম্বার প্যানেল চেয়ারম্যান সীল ব্যবহার  করে স্বাক্ষর দিয়ে কাজ চালান৷

এরপর বিএনপি নেতারা সিদ্ধান্ত নেন, প্রশাসনিক লিখিত সিদ্ধান্ত না হওয়া প্রর্যন্ত পরিষদ সচিবকে বলা হয় জরুরী স্বাক্ষর কাগজ পত্র সাময়িক ভাবে প্যানেল চেয়ারম্যান করবে ৷

তবে কিছু দিন পরই সীল পরির্বতন করে নিজেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দাবী করে ইউনিয়ন পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ কাগজগুলোতে স্বাক্ষর করতে থাকেন শামীম মেম্বার। পরে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, স্থানীয় বিএনপির নেতাদের ত্রিশ লক্ষ টাকায় ম্যানেজ করে তার পক্ষে নিয়েছেন দুর্ধর্ষ শামীম মেম্বার।

স্থানীয়রা জানান, শামীম আহাম্মদের বাবা চিহ্নিত ভূমিদস্যু গিয়াস উদ্দিন  ভাত খেতে ভাত পেতো না। ভাতের অভাবে সে ডাকাতি করে সংসাদ চালাতো। ছিলো ডাকাত সর্দার। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা আসার পর শত শত কোটি টাকার মালিক মনে যায় গেসু পরিবার। চর নরসিংপুর এবং উত্তর নরসিংপুর তথা বক্তাবলীর রাজাপুর থেকে শুরু করে সেখানে কয়েকটি এলাকায় বিগত দিনে তাণ্ডব চালিয়েছেন শামীম মেম্বার।

এদিকে বিগত দিনে আওয়ামী লীগের দেওয়া বিএনপি বিরোধেী প্রতিটা কর্মসূচি ও হরতালে কাশীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যে হরতাল বিরোধী মিছিল হয়েছে তাতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আইয়ূব আলীর পাশে হরতাল বিরোধী প্রতিটা মিছিলে দল বল নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা শামীম মেম্বার দাড়ি টুপি পাঞ্জাবী-পায়জামা পড়ে দাপটের সাথে অংশ গ্রহণ করতেন। সেই লেবাস নিয়েই এখন কাশীপুরে বিএনপির অনুষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে। যা নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাদের মাঝেও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এব্যাপারে জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ জানান, আমি তাকে (শামীম আহাম্মদ)  চিনি না। কাশীপুরে একটু সরকারি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম ইউএনও সাহেবের দাওয়াতে। তাকেও ইউএনও দাওয়াত দিয়েছে কিনা তা আমি জানি না। তবে বিষয়টি যেহেতু জানলাম খোঁজ নিয়ে দেখি।

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমি ওই লোককে চিনি না। বিষয়টা এতদিন জানতাম না। ঐদিন খাল খনন কর্মসূচিতে সে উপস্থিত হয় এবং গণমাধ্যমে তার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তখন এ বিষয়ে জানতে পেরেছি। আওয়ামী লীগের সভাপতি গণহত্যা মামলার আসামি কি করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয় সেটাই আমার প্রশ্ন। এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আমি অবশ্যই দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে এ বিষয়ে বসবো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

বিষয়টি নিয়ে কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ মন্ডলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ বাদল পালিয়ে যায়। তখন সকল মেম্বাররা মিলে শামীমকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বানায়। আমরা আশা করেছিলাম কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপিপন্থী যেসব মেম্বাররা রয়েছেন তারা এর বিরোধিতা করবেন কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ডালিম শিকদার সহ বিএনপিপন্থী মেম্বাররা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীমকে সবার আগে সমর্থন জানিয়েছে। এ বিষয়ে তাদের মাঝে কোনো অর্থের লেনদেন হয়েছে কিনা তা আমি জানিনা তবে এ বিষয়টি নিয়ে আমরা দলীয় পর্যায়ে বসবো এবং সমাধানের চেষ্টা করবো। থানা বিএনপি এবং জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিষয়টা জানাবো এবং দ্রুতই সমাধানের চেষ্টা করব।

উল্লেখ্য এরআগে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, আমি জয়েন্ট করার আগে থেকেই তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। তাই বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের হত্যা মামলার পলাতক আসামী হলে বিষয়টি আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জানাবো। পরবর্তী সিদ্ধান্ত সেখান থেকে দেয়া হবে।