সোনারগাঁয়ে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
নারায়ণগঞ্জ মেইল: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের আষাড়িয়ারচর এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে সেখানে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের অভিযোগ উঠেছে বিএনপিরই এক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ এবং তার ছোট ভাই উপজেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক ও পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং এলাকাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
জানা যায়, আব্দুর রউফ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তার ছোট ভাই আব্দুল জলিল। বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি ও সংগঠনিক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিতে থাকেন তিনি। কিন্তু পরবর্তীতে এলাকায় একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, নিজের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ছোট ভাইয়ের আধিপত্য দমনে আব্দুর রউফ পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। শুধু তাই নয়, তাদের পুনরায় এলাকায় ফিরিয়ে এনে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন বলেও স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিমের সঙ্গে বিরোধ থাকলেও, সেই পলাতক নেতাকেই পুনরায় এলাকায় ফিরিয়ে এনে নিজের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ। বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপির নেতা হয়েও আব্দুর রউফ এখন আওয়ামী লীগের লোকজনকে ব্যবহার করছেন। এতে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং তৃণমূল কর্মীরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছে।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, পিরোজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলামকে প্রকাশ্যে এলাকায় এনে বিএনপি নেতা আব্দুল জলিলকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মসজিদ ও মাদ্রাসার বিভিন্ন কমিটি নিয়ন্ত্রণে নিতেও আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্থানীয় রাজনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের মতে, দলীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে প্রতিপক্ষ দলের বিতর্কিত বা পলাতক নেতাদের পুনর্বাসন করা শুধু নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ নয়, বরং এটি দলীয় শৃঙ্খলারও চরম লঙ্ঘন। এতে করে সংগঠনের ভেতরে বিভাজন বাড়ে এবং তৃণমূল পর্যায়ে আস্থার সংকট তৈরি হয়।
আরেকজন বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, ব্যক্তিগত আধিপত্য বিস্তারের জন্য যদি কেউ রাজনৈতিক আদর্শ বিসর্জন দেন, তাহলে তা সাময়িকভাবে সুবিধা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে দল ও এলাকার জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।
সমালোচকদের বক্তব্য অনুযায়ী, আব্দুর রউফের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তাকে একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার চেয়ে বরং বিতর্কিত ও স্বার্থান্বেষী চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, ব্যক্তিগত প্রভাব ধরে রাখতে তিনি দলীয় আদর্শ ও নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষের সঙ্গেও আপস করতে দ্বিধা করছেন না।
এদিকে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই মনে করছেন, এভাবে চলতে থাকলে আষাড়িয়ারচর এলাকায় বিএনপির ঐতিহ্যবাহী অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে।
