না:গঞ্জে আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা প্রশ্নবিদ্ধ
নারায়ণগঞ্জ মেইল: নারায়ণগঞ্জের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতি ঘটেছে। গত ৬ দিনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর চারবার হামলা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ এবং র্যাব সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়াও জেলা জুড়ে ছিনতাই, ডাকাতি এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম একের পর এক বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত নারায়ণগঞ্জ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। পুলিশের এই রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা বড় কোন ষড়যন্ত্রের অংশ কিনা তাও ভেবে দেখার দাবি উঠেছে।
ঘটনা সূত্রে প্রকাশ, চলতি মে মাসের প্রথম ৬ দিনে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, বন্দর ও রূপগঞ্জে চারবার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলার ঘটনার ঘটেছে। এ সময় পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে হ্যান্ডকাপ পরা আসামি ছিনিয়ে নিয়ে গেছে একাধিকবার। এলিট ফোর্স র্যাব বাহিনীর উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে মাদক ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ কর্মীদের উপর অবৈধ হকারদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। অথচ নারায়ণগঞ্জের পুলিশ প্রশাসন ধারালো কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। কোন সাঁড়াশি অভিযান কিংবা বড় কোনো সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেনি।
গত শুক্রবার ১ মে দিবাগত রাত দুইটার দিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পুরান বন্দর চৌধুরীবাড়ি এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনার তদন্তে গেলে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে একটি শটগান ছিনতাই করে দুষ্কৃতকারীরা।
ছিনতাইয়ের চার ঘণ্টা পর শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় শটগানটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত কনস্টেবল ফয়সাল হোসেনকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) বিকেলে শহরের চাষাঢ়ায় নূর মসজিদের সামনে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) হকার উচ্ছেদ কর্মচারীদের ওপর হামলা করেছেন ফুটপাতের হকাররা। এ সময় দুই কর্মচারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
এ সময় তাদের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে হকারদের বিরুদ্ধে। আহতদের মধ্যে দুজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন: জাহাঙ্গীর ও রুহুল।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের বোয়ালিয়া খাল এলাকায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে ও মাদকবিরোধী অভিযানে র্যাবের ওপর হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা।
এসময় র্যাবের তিন সদস্যকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে মাহী ও ইব্রাহীম নামে র্যাবের দুই সদস্যকে সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া গুরুতর আহত এস আই নজিবুলকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
একই দিনে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের চনপাড়ায় পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ অস্ত্র মামলার আসামি যুবদলের এক নেতাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন তাঁর সমর্থকেরা। এ সময় হামলায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পুলিশের ৬ সদস্য আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় যুবদলের ওই নেতার স্ত্রীসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া শামীম মিয়া (৪২) হত্যা, মাদক ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি। তাঁর বাড়ি চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে। শামীম মিয়া রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক।
বুধবার ৬ মে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন কাশিপুরে চাঁদা না পেয়ে এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবলের বাড়ি লুট করছিলো সন্ত্রাসীরা। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে পাঁচজনকে আটক করে। এ সময় পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে হ্যান্ডকাপ পরা আসামিসহ পাঁচজনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এসব বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের মুঠোফোনে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারগনকে ফোন করা হলে তারাও কেউ ফোন রিসিভ করেননি। তাই প্রশাসনের বক্তব্য দেয়া সম্ভব হলো না।
