মতির পথেই জাকির, বিনাভোটের প্রস্তুতিতে চলছে সহিংসতা

নারায়ণগঞ্জ মেইল: নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলাধীন আলীরটেক ইউনিয়নে ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে সাধারণ জনগণ। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিনা ভোটে চেয়ারম্যান হয়েছিলেন মতিউর রহমান মতি। সেবার ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন এলাকাবাসী। তাই এবার তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চান। স্থানীয় জনসাধারণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে এবার নৌকার প্রার্থী জাকির হোসেন বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক তরুণ উদীয়মান নেতা সায়েম আহমেদ। সাধারণ জনগণের প্রতিনিধি হয় তাদের ভোটের দাবি পূরণের লক্ষ্যে তিনি নির্বাচনের মাঠে এখনো বলিষ্ঠভাবে রয়েছেন।

এদিকে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকির হোসেন সাবেক চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতির ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রেখে এবারও চাইছেন বিনা ভোটে চেয়ারম্যান হতে। তাই ছলে-বলে-কৌশলে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সায়েম আহমেদকে সরিয়ে দিতে চাইছেন। সেজন্য আলীরটেক ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে নিজ সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে নানারূপ সহিংসতার ঘটনা ঘটিয়ে চলেছেন। আর এর দায় চাপিয়ে দিতে চেষ্টা করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সায়েম আহমেদের উপরে। যাতে করে ভয় পেয়ে সায়েম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান- এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ, আগামী ১১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের সন্ত্রাসী বাহিনী এলাকায় আতংক সৃষ্টি করতে এক নিরীহ শ্রমিককে অহেতুক অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

জাকির বাহিনীর সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত আলামিনকে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়ার হাসপাতালে নেয়া হলে তার হাতে ৬টি সেলাই দিয়েছেন চিকিৎসক। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আহত আলামিন।

ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, ২২ অক্টোবর শুক্রবার বিকেলে আলীরটেক এলাকায় চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থী জাকির হোসেনের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় আলীরটেক ইউনিয়নের গুঞ্জুকুমারীয়া এলাকা থেকে জাকির হোসেন বাহিনীর সন্ত্রাসীরা যাওয়ার পথে কুড়েরপাড় ব্রীজে যানজট থাকায় অটোরিক্সা চালক ও অটোর যাত্রীদের মারধর শুরু করে।

ওই সময় অটোযাত্রী কুড়েরপাড় এলাকার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে আলামিন অটোরিক্সা চাপাতে বলা মাত্রই জাকির হোসেন বাহিনীর সন্ত্রাসী আবদুর রহমান সহ ৭/৮ জন আলামিনকেও মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা সেভেন আপের বোতল ভেঙ্গে আলামিনের পেটে আঘাত করতে গেলে আলাামিন হাত দিয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন।

ওই সময় ভাঙ্গা সেভেন আপের বোতলের আঘাতে আলামিনের হাত রক্তাক্ত জখম হয়। একই সময় সন্ত্রাসীরা উপর্যুপুুরি আলামিনকে মারধর করতে থাকলে আলামিন মাটিয়ে লুটিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আশপাশের লোকজন এসে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে আলামিনকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে আলামিনের হাতে ৬টি সেলাই দেয়া হয়। পরবর্তীতে আলামিন সদর মডেল থানায় গুঞ্জকুমারীয়া এলাকার আব্দুল গণির ছেলে আব্দুর রহমানের নাম উল্লেখ করে আরো ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।

এই ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৌকার প্রার্থী জাকির হোসেন এলাকায় আতংক সৃষ্টি করতেই তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে সাধারণ নিরীহ মানুষের উপর হামলা চালানোর ঘটনা ঘটিয়েছে। মুলত প্রভাব বিস্তারের লক্ষেই জাকির হোসেনের সন্ত্রাসীরা যানজটের অজুহাতে অটোচালক ও অটোযাত্রীদের মারধরের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। কারন জাকির হোসেন চেয়েছিলেন এই নির্বাচনে তিনি বিনা ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে যাবেন। কিন্তু এখানে শক্ত প্রতিদ্বন্ধি স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় নৌকার প্রার্থী জাকির হোসেন সেটা পেরে ওঠেনি। যে কারনে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে প্রভাববিস্তারের জন্য জাকির হোসেন নিরীহ মানুষের উপর সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়েছেন।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

নারায়ণগঞ্জ মেইলে এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

সর্বশেষ

You cannot copy content of this page