আজাদে আটকা যুবদলের দুই কমিটি

নারায়ণগঞ্জ মেইল: নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর যুবদলের কমিটি তিনজন আর পাঁচজনে আটকা আছে অনেকদিন। কমিটি পূর্নাঙ্গ না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে হতাশা। আর এদিকে জেলা মহানগরের দুই কমিটি পদ বানিজ্যের কারনে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে আড়াইহাজার বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম আজাদের বিরুদ্ধে। ইতিপূর্বেও বিএনপির বিভিন্ন কমিটি হওয়ার পূর্বে আজাদেও বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিলো। আজাদকে বিএনপিতে কমিটির ‘কিং মেকার’ হিসেবেও বলে থাকেন অনেকে।

এদিকে দিনের পর দিন রাজপথে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেও কমিটিতে পদ পদবী না পাওয়ায় ক্ষুব্দ হয়ে উঠেছেন নেতাকর্মীরা। দল সামনে চুড়ান্ত আন্দোলনের দিকে যাচ্ছে, নেতাকর্মীরা সংগঠনকে গুছনোর কাজ করবে ঠিক সেসময়ে যুবদলের কমিটি নিয়ে নেতারা পদ বানিজ্য শুরু করে দিয়েছেন। তাই তৃণমূল ফুঁসে উঠতে শুরু করেছে। রাজপথের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে কোনো হাইব্রিডকে দায়িত্ব দিলে তারা তা মেনে নেবে না। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রাম। তাই কিং মেকার আজাদের রাহুগ্রাম থেকে মুক্তি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর যুবদলের পরীক্ষিত নেতাদের দায়িত্ব দেয়ার আহবান জানিয়েছেন তারা।

জানা যায়, ২০২২ সালের ১৬ মার্চ ঘোষনা করা হয়েছিলো নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের তিন সদস্যের আহবায়ক কমিটি। গোলাম ফারুক খোকনকে আহবায়ক আর মশিউর রহমান রনিকে সদস্য সচিব করে গঠিত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক করা হয় ভিপি কবিরকে। এর ছয় মাস পর ১৫ নভেম্বর ঘোষনা করা হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ৯ সদস্যের আহবায়ক কমিটি যেখানে সদস্য সচিব করা হয় জেলা যুবদলের আহবায়ক গোলাম ফারুক খোকনকে। ফলে জেলা যুবদলের আহবায়ক পদটি খালি হয়ে যায়।
এদিকে জেলা যুবদলের কমিটি গঠন নিয়ে বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম আজাদের বিরুদ্ধে। সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খায়রুল ইসলাম সজিব কমিটিতে আসতে বিশাল টাকা বিনিয়োগ করেছেন বলে গুঞ্জন আছে রাজনৈতিক মহলে। তাছাড়া সাদেকুল ইসলাম সাদেককের জন্যেও আজাদ টাকা ঢালছেন বলে জানাচ্ছেন নেতাকর্মীরা।

তৃণমূল নেতাকর্মীরা ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা যখন দুর দুরান্ত থেকে মিছিল নিয়ে এসে কর্মসূচি সফল করছে, মামলা হামলা মাথায় নিয়ে রাজনৈতিক সভা সমাবেশে উপস্থিত হচ্ছে আর নেতারা টাকার বিনিময়ে আযোগ্যদের নেতৃত্ব দিয়ে দেবে তা কোনোভাবে মেনে নেয়া হবেনা।

২০২১ সালের ১৬ নভেম্বর ঘোষনা করা হয়েছিলো নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সুপার ফাইভ আহবায়ক কমিটি। মমতাজউদ্দিন মন্তুকে আহবায়ক আর মনিরুল ইসলাম সজলকে সদস্য সচিব করে ঘোষনার প্রায় দেড় বছর হয়ে গেছে কমিটি এই পাঁচজনেই আটকে আছে। এই সময়ের মধ্যে মহানগর যুবদল নিজেদের কমিটি পূর্নাঙ্গ করতে পারেনি, পারেনি কোনো ইউনিট কমিটিও ঘোষনা করতে।

নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি নেতা আজাদের ইন্ধনেই মহানগর যুবদলের কমিটি এখনো পর্যন্ত ঝুলে আছে। বিশেষ করে মহানগর যুবদলের আহবায়ক মমতাজউদ্দিন মন্তু দীর্ঘদিন যাবত যুবদল করছেন। তাছাড়া তার যুবদল করার বয়সও শেষ হয়ে এসেছে। তাই মন্তুকে সসম্মানে যুবদল থেকে বিদায় দিয়ে নতুন করে মহানগর যুবদলকে গুছিয়ে দেয়ার দাবি তৃণমূলের। কিন্তু মন্তু আজাদের মাধ্যমে থেকে যেতে চাচ্ছেন আরো এক মেয়াদে। আর এ কারনেই মহানগর যুবদলের কমিটি নিয়ে চলছে চরম নাটকীয়তা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

নারায়ণগঞ্জ মেইলে এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

সর্বশেষ