হকারদের উস্কানি দিচ্ছে কুখ্যাত জুয়াড়ি শাহজাহান

নারায়ণগঞ্জ মেইল: নারায়ণগঞ্জে ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের উস্কানি দিচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের কুখ্যাত জুয়াড়ি শাহজাহান। যিনি এখন নিজেকে হকারদের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি ঘিরে নগরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ।

রোববার (৩ মে) শহরের বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ হওয়া হকারদের নিয়ে মিছিল ও বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় মো. শাহজাহান ওরফে ‘জুয়াড়ি শাহজাহান’কে। শুধু উপস্থিতিই নয়, তিনি প্রকাশ্যে প্রশাসনের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্যও দেন।

তার ভাষণে সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ কার্যক্রমকে ‘ছিনতাই’ ও ‘ডাকাতি’র সঙ্গে তুলনা করা হয়, যা অনেকের কাছে স্পষ্টভাবে আইন-শৃঙ্খলার প্রতি অবজ্ঞা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের মাছঘাট, কালিরবাজার, লঞ্চঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি এবং ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাসহ ছিনতাইকারীদের নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এমনকি ২০২০ সালের ২৬ অক্টোবর ডিবি পুলিশের হাতে চাঁদা আদায়ের সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তারও হন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, তার বিরুদ্ধে মাদক, জুয়া, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ শুরু হলে তার চাঁদাবাজির পথ সংকুচিত হয়ে পড়ে। সেই আর্থিক স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যেই তিনি হকারদের সামনে রেখে আন্দোলনে নেমেছেন।

অর্থাৎ, সাধারণ হকারদের জীবিকার প্রশ্নকে সামনে এনে নিজের অবৈধ আয়ের পথ সচল রাখার অপচেষ্টা করছেন—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও বিস্ময়ের বিষয়, এই শাহজাহান এখন জাতীয়তাবাদী হকার ইউনিয়ন দলের নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটির সহ-সভাপতির পদে রয়েছেন।

একজন চিহ্নিত অপরাধীর এমন পদে থাকা এবং প্রকাশ্যে নেতৃত্ব দেওয়া—এটি শুধু সংগঠনটির ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং পুরো নগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

তার বক্তব্যে হকারদের উদ্দেশ্যে ‘মালামাল নিতে এলে ঝাপিয়ে পড়ার’ আহ্বান সরাসরি সহিংসতার ইঙ্গিত দেয়। এমন উসকানিমূলক বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

নগরবাসীর অভিযোগ, এ ধরনের চিহ্নিত চাঁদাবাজরা হকারদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের পকেট ভারী করছে, আর সাধারণ মানুষের চলাচলকে জিম্মি করে ফেলছে।

তারা বলছেন, ফুটপাত জনগণের চলাচলের জন্য—কোনোভাবেই চাঁদাবাজদের দখলদারিত্বের জন্য নয়।

অন্যদিকে, সিটি কর্পোরেশন তাদের অবস্থানে অনড়। নগর কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা হবে এবং সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা হবে। কোনো ধরনের চাপ বা হুমকিতে তারা নতি স্বীকার করবে না।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই—একজন বহুল আলোচিত ও অভিযোগে জর্জরিত ব্যক্তি কীভাবে প্রকাশ্যে নেতৃত্ব দেয়, মিছিল করে, প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ জানায় ?

এটি কি শুধুই ব্যক্তির দুঃসাহস, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো প্রভাব বলয় ?

নারায়ণগঞ্জের সচেতন নাগরিকদের দাবি, অবিলম্বে ‘জুয়াড়ি শাহজাহান’-এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে এই ধরনের অপরাধী চক্রের প্রভাব বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় একটি সম্ভাবনাময় নগরী ধীরে ধীরে অপরাধের নগরীতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।