অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চায় নারায়ণগঞ্জবাসী

নারায়ণগঞ্জ মেইল: বিভিন্ন অপরাধীদের তৎপরতায় নারায়ণগঞ্জে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি হুমকির মুখে পড়ছে। এসকল অপরাধীরা শক্তির জানান দিতে ব্যবহার করছেন অবৈধ অস্ত্র। দীর্ঘদিন আত্মগোনে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আবারো সক্রিয় হয়ে উঠছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিগত দিনে নারায়ণগঞ্জে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে অভিযান বন্ধ থাকায় শহরের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

প্রতিদিন রাত ১২ বা ১টার পরই শহরের বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসী গ্রুপের মহড়া দিতে দেখা যায়। এসময় তারা অবৈধ অস্ত্র বহন করতেও দেখেছেন প্রত্যক্ষদর্শিরা। বিভিন্ন সময়ে পুলিশের অভিযানে ছোটখাটো অপরাধী গ্রেফতার হলেও বরাবরই গডফাদাররা ধরা ছোয়ার বাহিরে থেকে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শিরা জানান, পরিস্থিতি দেখে মনে হয় নারায়ণগঞ্জ শহর এখন পুরোপুরি ভাবে সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রনে চলে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিশ্চুপতায় সন্ত্রাসীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এখনো নারায়ণগঞ্জে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান পরিচলনা করা না হলে আগামীতে পুরো শহর সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার পর অবৈধ অস্ত্রর ব্যবহার কিছুটা কমলেও সম্প্রতি তা বেড়েছে বহুগুন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে সন্ত্রাসী বাহিনী। যারা নিজেদের সাথে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করছে। কিন্তু বর্তমানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তেমন কোন অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায় না। মূলত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিগত সময়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হলেও বর্তমানে তা বন্ধ থাকায় নারায়ণগঞ্জে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার বেড়েছে।

নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন সেক্টর নিয়ন্ত্রনে বিভিন্ন সময়ে অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করে আসছে সন্ত্রাসীরা। এছাড়াও রাজনৈতিক ক্যাডারদের কাছেও রয়েছে বিপুল পরিমান অবৈধ অস্ত্র। বিভিন্ন সময়ে ঝুট, তেল, জমি দখলসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার দেখা গেলেও নারায়ণগঞ্জে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ কোন অভিযান দেখা যায় না।

২০০১ সাল থেকে নারায়ণগঞ্জে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বাড়তে শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বারংবার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযানের কথা বলা হলেও বিগত দেড় যুগে নারায়ণগঞ্জে দৃশ্যমান অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কোন অভিযান দেখা যায়নি।
শীর্ষ সন্ত্রাসীরা একাধিকবার গ্রেফতার হলেও তাদের অস্ত্র ভান্ডারের সন্ধান রয়ে গেছে তিমিরে। রাজধানী ঢাকার পাশের জেলা নারায়ণগঞ্জ জেলার নাম শুনলেই অন্যান্য জেলার মানুষ সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে আখ্যায়িত করে ধিক্কার ধিত। ললাটে এটে গিয়েছিল কলঙ্কে ছাপ। নারায়ণগঞ্জে অপরাধীদের জনপদ হিসিবে পরিচিতি পায়। যার ফলে সাত খুনের মত ঘটনা ঘটেছিল। সাত খুনের পর শহর কিছুটা শান্ত হলেও বর্তমানে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ তৈরী হয়েছে। আর এরা এখন প্রকাশ্যেই অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে শহর দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেলের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

নারায়ণগঞ্জ মেইলে এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

সর্বশেষ