চাঁদাবাজির অভয়ারণ্য শীতলক্ষ্যা নদী, চাঁদার দাবিতে ১০ পণ্যবাহী জাহাজ আটকা
নারায়ণগঞ্জ মেইল : নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে চাঁদার দাবিতে একাধিক পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী জাহাজ শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নাম ভাঙিয়ে নৌ-পরিবহন শ্রমিক দলের একটি চক্র এই চাঁদাবাজি চালাচ্ছে।
অভিযোগে জানা যায়, শীতলক্ষ্যার বিভিন্ন পয়েন্টে, বিশেষ করে নবীগঞ্জ, কয়লাঘাট ও বন্দর এলাকায় জাহাজ নোঙর করলেই কথিত অ্যাসোসিয়েশনের লোক পরিচয়ে শ্রমিকদের কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। চাঁদা না দিলে দিনের পর দিন জাহাজ আটকে রেখে মালামাল খালাসে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জাহাজ মালিক ও শ্রমিকরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কার্গো শ্রমিক জানান, আগে একটি নির্দিষ্ট সংগঠন এই চাঁদা তুলতো, এখন কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে নৌ-পরিবহনের কিছু শ্রমিক নেতাই এই টাকা তুলছেন।
সরেজমিনে শীতলক্ষ্যা নদীতে গিয়ে দেখা গেছে, এমভি আল মোস্তফা-৪ ও এমভি আল মোস্তফা-৬ সহ অন্তত ১০টি জাহাজ আটকে রাখা হয়েছে। জাহাজ আটকের ঘটনায় নাম উঠে এসেছে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের ছোট ভাই জিকু খানের।
জাহাজে চাঁদাবাজদের প্রতিনিধি হিসেবে অপু নামে একজনকে পাওয়া যায়। তার সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, “আমি লাইনম্যান। আপনারা কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মিঠু গাজী ও সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলমের সাথে কথা বলেন।” চাঁদার জন্য জাহাজ আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “চাঁদা নয়, ছাড়পত্র চেক করছি।” ছাড়পত্র চেক করার আইনগত অধিকার আছে কি না জানতে চাইলে তিনি জাহাজ থেকে নেমে যান।
এ ব্যাপারে জিকু খান বলেন, “আমার নাম ভাঙিয়ে কেউ নৌপথে চাঁদাবাজি করে না। তবে তারেক রহমান নৌ-পরিবহন শ্রমিক দলের একটি কমিটি দিয়েছেন। চট্টগ্রাম, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ নৌ রুট মূলত বিগত ১৭ বছর একটি গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করতো। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপনি আমার অফিসে আসুন, বিস্তারিত জেনে যাবেন।”
এমভি আল মোস্তফা-৬ এর মাস্টার আলমগীর জানান, “তাদের সমিতির মাধ্যমে একটি টাকা দিতে হয়। আমাদের কোম্পানি টাকা না দেওয়ায় শীতলক্ষ্যা নদীতে গত দুইদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছে। আমরা চট্টগ্রাম থেকে মাল লোড করে নারায়ণগঞ্জের রূপসীতে যাব।”
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান জানান, “বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছি, তবে লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। তারপরও বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।”
এদিকে ভুক্তভোগীরা এই চাঁদাবাজি বন্ধে নৌ-পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
