স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পরীক্ষিত সৈনিক রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া
নারায়ণগঞ্জ মেইল: বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথের পরিচিত মুখ ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। হাসিনা সরকারের হামলা মামলা আর নির্যাতন সহ্য করে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে যে কয়েকজন যুবদল নেতা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তাদের মাঝে অন্যতম রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। আর তাই নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের পরবর্তী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ন পদে রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার অবদানকে মূল্যায়ন করার দাবি জানিয়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
এক সাক্ষাৎকারে রফিকুল ইসলাম জানান, ১৯৯৮ সনে ছাত্রদলের মাধ্যমেই তার রাজনীতির হাতেখড়ি। নিয়মিত দলীয় কর্মসূচি গুলোতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তৎকালীন নেতৃবৃন্দের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন রফিকুল। এরপর দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন যুবদলের সাথে, সামনের সাড়িতে থাকে আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে ছিলেন আলোচনায়।
সেই সময়ে বিএনপির ডাকা আন্দোলন, হরতাল-অবরোধ এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদালতকেন্দ্রিক প্রতিটি কর্মসূচিতে সামনের সারিতে থেকে লড়াই করেছেন বলে জানান রফিক।
রাজনৈতিক স্মৃতিচারণে রফিকুল ইসলাম জানান, তার রাজনৈতিক জীবনে অন্যতম কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আদালতের হাজিরাকে কেন্দ্র করে। চেয়ারপারসনের গাড়িবহরের সঙ্গে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় গ্রেফতার হয়েছিলেন রফিক, তৎকালীন সময়ে তার ওপর নেমে আসে টানা ২৬ দিনের ভয়াবহ রিমান্ড নির্যাতন। শুধু শারীরিকভাবেই নয়, রাজপথের রাজনীতি রফিকের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছিল পারিবারিক শান্তিও।
রফিকুল ইসলাম জানান, সেই সূত্র ধরেই রাতের আধারে কালো কাপড়ে দিয়ে মুখ ঢেকে সাদা কাপড়ে তাকে গ্রফতার করে ফতুল্লা থানা পুলিশ। ফতুল্লা থানার সেকেন্ড অফিসার রাজ্জাক তাকে ক্রসফায়ারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে। তখন ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছিলেন রফিকুল ইসলাম। এছাড়াও কারাবরণ ও রিমান্ডের কারণে নিজের মেয়ের শিক্ষা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়েও তার পাশে থাকতে পারেননি তিনি।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজপথের প্রতিটি কর্মসূচি থেকে শুরু করে ঢাকার কেন্দ্ৰ ঘোষিত কর্মসূচি সবখানেই সবসময় সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন দলপাগল হিসেবে পরিচিত রফিকুল। বারবার কারাবরণ, শারীরিক নির্যাতন, হামলা ও মামলার মুখোমুখি হলেও কখনোই নীতি নৈতিকতার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি এই যুবদল নেতা। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতার দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রাম নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গনে অনুপ্রেরণার এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
পরিশেষে রফিক জানান, পদ পদবী হোক কিংবা না হোক জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত জাতীয়তাবাদ আদর্শ বুকে ধারন করে বিএনপির পতাকাতলে থাকতে চান।
এই বিষয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিগত সময়ে বলেছিলেন, মিছিলের শেষে থাকা ছেলেটিকেও মূল্যায়ন করা হবে। তারই ধারাবাহিকতায় আসন্ন জেলা যুবদলের কমিটিতে রফিকের মত ত্যাগীর নেতার সর্বোচ্চ মূল্যায়ন চান নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা।
