মুকুলকে রাজিবের হুঁশিয়ারি

নারায়ণগঞ্জ মেইল: বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালামকে অবাঞ্ছিত ঘোষনা ও পিঠের চামড়া তুলে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন বিতর্কিত বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুুকুল। মুকুলের এই বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রদল সভাপতি মাসুকুল ইসলাম রাজিব বলেছেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আবদুস সালাম ভাইয়ের চামড়া তুলে নিবে এবং নারায়ণগঞ্জে উনাকে অবাঞ্চিত ঘোষনা যারা করেছে তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, শুধু তোমরা না সাথে তোমরা যাদের এজেন্ট, তাদেরকেও সাথে নিয়ে নিও। তারপরেও যদি উনার একটি পশম স্পর্শ করতে পারো, তাহলে নারায়নগঞ্জে জাতীয়তাবাদী সৈনিকেরা হাতে চুরি পরে এই নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে চলে যাবে।” সামাজিক যোগাযোগ মাধ্য্যম ফেসবুকে এক ষ্ট্যাটাসে তিনি এই হুঁশিয়ারি জানান।

জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিবএনপির ৪১ সদস্যের আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়। এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনকে আহবায়ক এবং এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করে কমিটির অনুমোদন দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সেই আহ্বায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন বিতর্কিত নেতা আতাউর রহমান মুকুল। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের বাসভবনে গিয়ে পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন তিনি। সেই সাথে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালামকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন এবং সালামের পিঠের চামড়া তুলে নেয়া হবে বলে হুমকি দেন।

আতাউর রহমান মুকুলের এ ধরনের বক্তব্যে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যাচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে। দীর্ঘ সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে অনুপস্থিত মুকুল সরকারের এজেন্ট হয়ে বিএনপিকে ভাঙনের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন বলে মত তৃণমূলের। বিএনপির সাইনবোর্ডে সরকারী দলের সাথে আতাঁত করা নেতা আতাউর রহমান মুকুল যাকে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ‘দালাল মুকুল’ নামে অভিহিত করে থাকেন। বিএনপিকে দালাল মুক্ত করতে না পারলে আন্দোলন সংগ্রাম ফলপ্রসু হবেনা বলেও অভিমত তাদের। ক্ষুব্দ নেতাকর্মীদের মতে, নৌকা হাতে মুকুলের সেই হাস্যোজ্জল ছবি এখনো হৃদয়ে রক্তক্ষরণের সৃষ্টি করে।

 

নেতাকর্মী সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি আতাউর রহমান মুকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের। বিএনপির গুরুত্বপূর্ন পদে থেকেও তিনি প্রায় এক যুগ যাবত সরকারী দলের নেতাদের তাবেদারি করেছেন, এমনকি তার থেকে নানাভাবে হয়রানি নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে। বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামের কর্মসূচিগুলোতে অংশ না নিলেও সরকারী দলের অনুষ্ঠানে মিছিল নিয়ে শোডাউন করতেন। সেই ‘লাঙ্গল মার্কা’ মুকুল নিশ্চয়ই নতুন কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে বিএনপি সাজার চেষ্টা করছে বলে আশংকা তৃণমূলের। এতোদিনের আন্দোলন সংগ্রামে যে মুকুলকে খুঁজেই পাওয়া যেতো না, তিনি এখন বিএনপির সবগুলো কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকছেন। এমনকি সদ্য ঘোষিত মহানগর বিএনপির কমিটিতে যুগ্ম আহবায়ক রাখা হয়েছে মুকুলকে।

তৃণমূল জানায়, মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি আতাউর রহমান মুকুলকে নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই স্থানীয় রাজনীতিতে। কয়েক বছর আগে একটি অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমানকে ‘কুকুর’ গালি দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের একজন নেতা, যে অনুষ্ঠানে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয় সে গালি হজমের পাশাপাশি মুচকি হাসিও দিয়েছিলেন বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুল। ২০১৫ সালের ১৬ জুন দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত জেলা পরিষদ মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমানকে ‘কুকুর’ বলে গালাগাল করেন যুদ্ধকালীন কমান্ডার আওয়ামীলীগ নেতা গোপীনাথ দাস। সে অনুষ্ঠানের মঞ্চে অতিথি হিসেবে বসে ছিলেন বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুল। তিনি হাসিমুখে সে গালি হজম করেন কোনো প্রতিবাদ করেননি।

এছাড়াও গত ১৫ বছর যাবত নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা সরকারবিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। সরকারি দলের হামলা-মামলার শিকার হয়েছে জেল জুলুম হুলিয়া মাথায় নিয়ে দিনের পর দিন আত্মগোপনে পালিয়ে থেকেছে কিন্তু এসব কিছুই পোহাতে হয়নি আতাউর রহমান মুকুলকে। তিনি দিব্যি শহরে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেরিয়েছেন। তাকে দেখা গেছে সরকারি দলের বড় বড় নেতাদের সাথে সভা-সমাবেশে অথচ দেখা মিলেনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে।

 

এমনকি গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন মুকুল। বন্দরের কেন্দ্রগুলো থেকে ধানের শীষের এজেন্টদের মেরে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আছে মুকুলের বিরুদ্ধে। প্রকাশ্যে ধানের শীষের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সরকারি দলের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সহায়তা করেছেন মুকুল- এমন অভিযোগ বিএনপি নেতাকর্মীদের। এ ধরনের গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাকে সিটি নির্বাচনের সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, যা বিএনপি নেতাকর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ সৃষ্টি করেছে। তাছাড়া দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়ায় এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে আর তৈমূরকে সহযোগিতা করায় এটিএম কামালকে দল থেকে বহিস্কার করা হয় অথচ এটিএম কামালের মতো মুকুলও সরাসরি তৈমূরকে নির্বাচনে সহযোগিতা করেছিলেন কিন্তু তাকে বাঁচিয়ে দেয়া হয়। তৈমূরের নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নিয়ে নারায়ণগঞ্জিি বএনপির নেতাকর্মীদের হুমকি দিয়ে মুকুল বলেছিলেন ‘তৈমূূরের পক্ষে কাজ না করলে নারায়ণগঞ্জ থেকে বের করে দেয়া হবে’।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

নারায়ণগঞ্জ মেইলে এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

সর্বশেষ