টার্গেট ডিসেম্বর, আজমেরীর নেতৃত্বে প্রস্তুত হচ্ছে না:গঞ্জ আওয়ামীলীগ
নারায়ণগঞ্জ মেইল: ডিসেম্বরকে টার্গেট করে সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ নতুন কৌশলে মাঠে নামার চেষ্টা করছে। ভারতে অবস্থানরত সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলকে সক্রিয় করা, ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে অস্তিত্বের জানান দেওয়া এবং পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল যোগাযোগ বাড়ানো – এই তিন কৌশলে এগোচ্ছে দলটি। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একেএম নাসিম ওসমানের পুত্র আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী সাবেক এমপি শামীম ওসমানের একটি ভিডিও বার্তা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি ডিসেম্বরে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। একই ধরনের বার্তা বিদেশে থাকা অন্যান্য নেতারাও দিচ্ছেন বলে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।
এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জে একের পর এক ঝটিকা মিছিল বের হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে মিছিলের সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
রূপগঞ্জে পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মাসুম চৌধুরী অপুর নেতৃত্বে যুবলীগের ব্যানারে মিছিল বের হয়। এসময় নেতাকর্মীরা “শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে” স্লোগান দেন।
এছাড়া বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ এবং ইসদাইর এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরোনো সড়কে ভোরে মাস্ক ও ক্যাপ পরে প্রায় ৫০ জনের ঝটিকা মিছিল হয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কেও যুবলীগের মিছিল হয়। এসব ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে রূপগঞ্জ থেকে ১৫ জন এবং লাঙ্গলবন্দ থেকে ১১ জনকে আটক করেছে। সম্প্রতি গোগনগরে যুবলীগ নেতা আহাম্মদ কাউছারের পক্ষে মিছিল করা হয়েছে।
তবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নারায়ণগঞ্জে সবচেয়ে বেশি মিছিল হয়েছে আজমেরি ওসমানের পক্ষে। পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও নিজের শক্তির জানান দেয়ার চেষ্টা করছেন আজমেরী ওসমান।
এদিকে, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সব ইউনিটকে সতর্ক করে বার্তা দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদল পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে মোটরসাইকেল টহল এবং বিক্ষোভ মিছিল করছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী এখন রাইড শেয়ারিং, বিউটি পার্লার, মোটরসাইকেল ব্যবসার আড়ালে আত্মগোপনে থেকে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন। ঢাকার ভাটারা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচরের মতো নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাতেও তারা ছড়িয়ে আছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনা দেশে না ফিরলে তার নেতৃত্ব নিয়ে দলের ভেতরেই বড় সংকট তৈরি হবে। তাই এটি অনেকটাই কর্মীদের মনোবল ধরে রাখার কৌশল মাত্র।
