জনগন শেখ হাসিনার জামানত বাজেয়াপ্ত করে দেবে: সালাম

নারায়ণগঞ্জ মেইল: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আ: সালাম আজাদ বলেছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ঘোষনা না দিলে দেশে মুক্তিযুদ্ধ হতো না। জিয়াউর রহমান ঘোষনা না দিলে দেশ স্বাধীন হতো না আর আমরাও গণতন্ত্র ফিরে পেতাম না। কিন্তু স্বাধীনতার পরে এই আওয়ামীলীগ সরকার গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করে একদলীয় বাকশাল তৈরী করে। একইভাবে এই শেখ হাসিনার সরকার দেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে আবারো দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে। গত ১৮ সালের নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে দিয়ে গণতন্তের কবর রচনা করেছেকরেছে এই হাসিনা সরকার। ৩০ ডিসেম্বও ভোট হওয়ার কথা থাকলেও পুলিশের সহায়তায়, র‌্যাবের সহায়তায়, বিডিআরের সহায়তায় ২১৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতে নৌকায় সিল মেরে বাক্স ভর্তি করেছে। তাই শেখ হাসিনা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে ভয় পায় কারণ সুষ্ঠ নির্বাচন হলে জনগন শেখ হাসিনার জামানত বাজেয়াপ্ত করে দিতে পারে।

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আওতাধীন সদর থানা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সোমবার ( ১২ জুন ) বিকেল তিনটায় নগরীর চাষাড়াস্থ বাঁধন কমিউনিটি সেন্টারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

প্রধান বক্তার বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, নারায়ণগঞ্জ সারাদেশের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটা জেলা। জাতীয় রাজণিিততে নারায়ণগঞ্জের গুরুত্ব অনেক। কিন্তু ইতিপূর্বে মহানগর বিএনপির দায়িত্বে যারা ছিলেন তারা মহানগরীর আওতাধীন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নগুলির কমিটি গঠনের বিষয়ে কোনো কাজই করে নাই। কিন্তু আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদেরকে দায়িত্ব দেয়ার পর থেকে আমরা মহানগর বিএনপির প্রতিটি ইউনিটকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে ত্যাগী নেতাকর্মী বাছাই করেছি। প্রতিটি ইউনিটের জন্যে আলাদা আলাদা সমন্বয় কমিটি গঠন করে একের পর এক কর্মীসভা করেছি। সেইসাথে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিগুলিগুলোও নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে রাজপথে থেকে পালন করেছি।

 

তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিট কমিটি গঠিত হয়েছে সম্মেলনের মাধ্যমে। ইতিমধ্যেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আওতাধীন ১৭টি ওয়ার্ড ও ৭টি ইউনিয়ন কমিটির সম্মেলন শেষ হয়েছে। বন্দর থানা বিএনপির সম্মেলনও শেষ হয়েছে আর আজ শেষ হবে সদর থানা বিএনপির সম্মেলন। প্রতিটি সম্মেলনে সম্পূর্ন গণতান্ত্রীক প্রকৃয়ায় নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। যেখানে একাধিক প্রার্থী ছিলো সেখানে ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়েছে। শতভাগ স্বচ্ছতা রেখে আমরা একটি শক্তিশালী ইউনিট গঠনের চেষ্টা করেছি। আর এসব কিছুই সম্ভব হয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সকলের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে। আমি মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে তাদেও সবাইকে জানাই রক্তিম সালাম ও আমার প্রাণঢালা শুভেচ্ছা। আর এই বৃহৎ কর্মযঞ্জে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি তারা হলেন প্রতিটি থানা, উপজেলা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা যারা কমিটি গঠন ও সম্মেলন আয়োজনের পাশাপাশি প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। অথচ মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি ঘোষনার পর থেকেই একটি পক্ষের প্রবল বিরোধীতার পরেও আমরা আজ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেয়া দায়িত্ব পালনে সফলতার মুখ দেখতে পেয়েছি।

 

বিশেষ বক্তার বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান বলেন, গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে আহবায়ক ও আমাকে সদস্য সচিব হিসাবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির দায়িত্ব দিয়েছিল আপনারা কি সঠিক নেতৃত্ব পেয়েছিলেন। আপনারা কি আন্দোলন সংগ্রামে বিপদ-আপদে আমাদেরকে পেয়েছেন। বিগত সময়ের কমিটি থেকে বর্তমান মহানগর বিএনপির কমিটি কি শক্তিশালী কি না শক্তিশালী। যদি শক্তিশালী হয়ে থাকে তাহলে আমাদের নেতৃত্বে কি আপনার আন্দোলন সংগ্রাম করতে প্রস্তুত আছেন। আর আমরা যে কমিটিগুলো করেছি সেগুলো কি কোন পকেট কমিটি করেছি।

 

আজকের প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি বৃন্দদের সামনে আমরা বলতে চাই আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক জননেতা তারেক রহমান আমাকে ও এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে দিয়ে যে মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি দেয়া হয়েছে আমরা শপথ করেছি আমরা কোন পকেট কমিটি করব না। কারো পক্ষপাতিত্ব বা পদপদবি বিক্রি করবো না। যদি কমিটি বিক্রি করি তাহলে আমাদের বাবা-মায়ের রক্ত খাই। আমরা কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি। আমরা কারো সাথে কোন স্বজনপ্রীতি করিনি। তাহলে আগামীতে আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক জননেতা তারেক রহমান এই ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকার পতনের লক্ষ্যে যে আন্দোলনের ডাক দিবেন সেই আন্দোলন আপনারা রাজপথে থাকবেন কিনা।

 

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির দ্বি- বার্ষিক সম্মেলনে আজকে যাকে আপনারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করবেন তাদের প্রতি কি আপনাদের রাস্তা আছে। আজকের অতিথিদের কাছে আমরা বলব আপনারা আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক তারেক রহমানের কাছে সুপারিশ করে আমাদের যে কমিটি দিয়েছেন আমরা আমাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছি। এক্ষেত্রে আমরা কারো সাথে কোন আপোষ করিনি। আমরা কোন লাঙ্গল মার্কা নৌকা মার্কার সাথে আতাত করি নাই। যারা আমাদের কমিটি থেকে দূরে সরিয়ে গিয়েছিল তারা আজকে এক এক করে সবাই ফিরতে শুরু করেছে।

 

তিনি আরও বলেন, দেশ আজ এক ক্রান্তিলগ্নে। দেশে দুর্নীতি ও লুটপাট হচ্ছে। বাক স্বাধীনতা নেই গণতন্ত্র নেই। দেশে আজকে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি। গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি। এর কারনে দেশের মানুষ আজ দিশেহারা। আগামী দিনে আমার নেতা জননেতা তারেক রহমান যে আন্দোলন সংগ্রামে ডাক দিবে সে আন্দোলনে আপনারা সবাই শরিক হবে। আমি আমার মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সুস্বাস্থ্য ও তার মুক্তি দাবি করছি। ইনশাল্লাহ সরকার পতনের মাধ্যমে মুক্তি পাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ফিরে আসবে দেশের গণতন্ত্র, বীরের বেশে ফিরে আসবে আমার নেতা তারেক রহমান।

 

দীর্ঘ ২৭ বছর পর জমকালো আয়োজনের অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাসুদ রানা সভাপতি এবং এড. এইচ এম আনোয়ার প্রধান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

 

নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির আহ্বায়ক মাসুদ রানার সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব এড. এইচ এম আনোয়ার প্রধানের সঞ্চালয়নায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এড. আব্দুস সালাম আজাদ। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটু। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসনে খান ও বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, আজহারুল ইসলাম মান্নান।

 

সম্মেলনে অতিথি ছিলেন উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এড. জাকির হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক এড. সরকার হুমায়ূন কবির, মনির হোসেন খান, আনোয়ার হোসেন আনু, ফতে মোহাম্মদ রেজা রিপন, বন্দর থানা বিএনপি’র সভাপতি শাহেন শাহ্ আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক রানা।

 

সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এড. রফিক আহমেদ, ডা. মজিবুর রহমান, শওকত হাসেম শকু, হাবিবুর রহমান দুলাল, মাহমুদুর রহমান, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী নুরুদ্দিন, বন্দর উপজেলা বিএনপি আহবায়ক মাজহারুল ইসলাম হিরণ, কেন্দ্রীয় যুবদলের ১ম সদস্য সাদেকুর রহমান সাদেক, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মমতাজ উদ্দিন মন্তু, সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম সজল, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সাগর প্রধান, যুগ্ম আহবায়ক সাহেদ আহমেদ, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম সরকার, শেখ সেলিম, নাজমুল হক, চঞ্চল মাহমুদ, লিংকন খান, আল আমিন প্রধান, মো. মহসিন, কাজী নাঈম, মহসিন উল্লাহ, সদস্য আবুল হোসেন রিপন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত ইসলাম রানা, মহানগর মহিলা দলের সভানেত্রী দিলারা মাসুদ ময়না, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগরসহ ৮টি ওয়ার্ড এবং দুটি ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

নারায়ণগঞ্জ মেইলে এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

সর্বশেষ