জুয়েল-মোহসিনের কালো অধ্যায় ফিরিয়ে আনলেন সাখাওয়াত
নারায়ণগঞ্জ মেইল: দীর্ঘদিন পর আবারো নারায়ণগঞ্জের আদালত পাড়ায় আইনজীবীরা লাঞ্ছিত হলো। স্বৈরাচারী আমলের সেই কালো অধ্যায়ের সূচনা হলো আবারো। একসময় যা নিয়মিত ঘটতো তা আবারও ঘুরতে শুরু করলো বলে মনে করেন সাধারণ আইনজীবীরা। আগে জুয়েল মহসিনের নেতৃত্বে আইনজীবীদের উপর হামলা চালানো হতো এবার সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খানের নেতৃত্বে আইনজীবীদের উপর হামলা চালানো হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আইনজীবী সমিতির সদস্যবৃন্দ। ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর এই দিন আবার তাদের দেখতে হবে এমনটা তারা কল্পনাও করেননি বলে গণমাধ্যমকে জানান।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া ঘুরে আইনজীবীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে এক সময় কালো অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের আইনজীবীরা। আদালত প্রাঙ্গনে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য আইনজীবীদের উপর হামলা, নির্যাতন চালিয়েছিলেন তৎকালীন জুয়েল-মোহসিন গ্রুপ। বিশেষ করে আইনজীবী সমিতি নির্বাচনের সময় বিএনপি জামাত পন্থী আইনজীবীদের উপর হামলা চালানো প্রাত্যহিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। তাছাড়া বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামী তাদের কোনো দলীয় কর্মসূচি আদালত প্রাঙ্গনে পালন করতে গেলে তাদের উপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছেন জুয়েল-মোহসিনের নেতৃত্বে আওয়ামী আইনজীবীরা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়া থেকেও পালিয়ে যান এডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও এডভোকেট মোহসীন মিয়াসহ সে সময়ে হামলা নির্যাতনের সাথে জড়িত আওয়ামী আইনজীবীরা সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে এক নির্মম কালো অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
আইনজীবীরা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, জুয়েল-মোহসিন পালিয়ে যাওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম নারায়ণগঞ্জের আদালত পাড়ায় আর কখনো আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনার ঘটবে না, সবাই মিলে মিশে একসাথে আইন পেশা পরিচালনার পাশাপাশি সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা চালিয়ে যাবো। কিন্তু বারের সাবেক সভাপতি এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য আইনজীবী সমিতিকে আবারো কলঙ্কিত করলেন। কোনো কারণ ছাড়াই আইনজীবীদের উপর আক্রমণ চালিয়ে তিনি সেই কালো অধ্যায় আবার ফিরিয়ে আনলেন। এই ঘটনার মাধ্যমে এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান সাধারন আইনজীবীদের কাছে জুয়েল-মোহসিনের মতই ঘৃনার পাত্র হয়ে উঠলেন।
