বার পলিটিক্স, তৈমুরের পথেই হাঁটছেন সাখাওয়াত
নারায়ণগঞ্জ মেইল: নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে এক সময় দাপুটে অবস্থান ছিলো অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের। বিশেষ করে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের অলিখিত অভিভাবক ছিলেন তিনি। প্রতিটি নির্বাচনের আগে নিজ বাড়িতে বসে দলীয় মনোনয়ন দিতেন। যাকে ইচ্ছা রাখতেন যাকে ইচ্ছা বাদ দিতেন। তার কথার উপরে কথা বলার সাহস কারো ছিলো না। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই তৈমুর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ায় আধিপত্য হারিয়েছেন। পরবর্তী প্রজন্মকে জায়গা ছেড়ে দেয়ার যে বিধান রয়েছে তা মানতে চান নাই তিনি। ফলে দুর্দান্ত প্রতাপশালী তৈমুর আলম এক প্রকার নীরবে নিভৃত নারায়ণগঞ্জ আদালত ত্যাগ করেছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ায় বিএনপি পন্থী আইনজীবীদের মাঝে একক আধিপত্য বিস্তারকারী তৈমুর আলম খন্দকার তার আধিপত্য হারিয়েছিলেন তারই শিষ্য এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের কাছে। ২০১৩-১৪ মৌসুমে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে সভাপতি পদে মনোনয়ন চেয়েছিলেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান কিন্তু তৈমুর আলম খন্দকার সাখাওয়াতের বদলে মনোনয়ন দিয়েছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূঁইয়াকে। ক্ষুব্ধ সাখাওয়াত স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছিলেন সভাপতি পদে এবং আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র প্রার্থীকে পরাজিত করে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই থেকে নারায়ণগঞ্জ কোর্টে সাখাওয়াত যুগের সূচনা হয় এবং আধিপত্য হারাতে থাকেন অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার।
যে ঘটনা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের সাথে ঘটেছিল সেই একই ঘটনার সামনে দাঁড়িয়ে এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তৈমুর আলম খন্দকার যেভাবে তার শিষ্য সাখাওয়াত হোসেন খানের কাছে আধিপত্য হারিয়েছিলেন, ঠিক সেভাবেই সাখাওয়াত হোসেন খান তারই শিষ্য এডভোকেট এইচএম আনোয়ার প্রধানের কাছে আদালত পাড়ার আধিপত্য হারাতে চলেছেন। আসন্ন জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী হতে চলেছেন তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা এডভোকেট আনোয়ার প্রধান কিন্তু তা মানতে রাজি নন এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। পরবর্তী প্রজন্মের আবেগ বুঝতে না পেরে অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার যে ভুল করেছিলেন, সেই একই ভুল করতে যাচ্ছেন এডভোকেট সাখাওয়াত। অতীত থেকে শিক্ষা না নিয়ে অতীতের ভুল তিনিও করতে চলেছেন। তৈমুরের দেখানো পথে তিনিও হাঁটছেন।
