| | |

বিসিকের ঝুট কি শুধু রনি-রাসেল খায় ?

নারায়ণগঞ্জ মেইল: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন পঞ্চবটি এলাকায় অবস্থিত বিসিক শিল্পনগরীর প্রায় ১২০০ ছোট বড় গার্মেন্টসের ওয়েস্টেজ মালামাল নিয়ে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে গত দুই বছরে বিবাদমান দুটি গ্রুপের মাঝে বিভিন্ন সময় মারামারি, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, এমনকি গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে। আর এসব ঘটনায় প্রায় প্রতিবারই উঠে আসছে দুটি নাম। যার একজন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি আরেকজন ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদ। যখনই বিসিকে কোনো ঝামেলা হয়েছে তখনই ঘুরেফিরে এই দুজনের নামই এসেছে। আর তাই সংশ্লিষ্টদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, বিসিকের ওয়েস্টেজ মালামাল যা স্থানীয়ভাবে ঝুট নামে পরিচিত, তা কি শুধু এই দুজনের পেটেই যায় ?

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিসিক শিল্প নগরীর গার্মেন্টস ওয়েস্টেজ বা ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করেন বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। হাতেমের টোকেন সিস্টেমে নিয়ন্ত্রিত হয় পুরো বিসিকের ঝুট সেক্টর। এই তালিকায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, ফতুল্লা থানা বিএনপি, জেলা ও মহানগর যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, তাঁতি দলের একাধিক নেতার নাম। সেই সাথে রয়েছে বিশেষ পেশার পরিচয়দানকারী কয়েকজনের নামও যাদের পকেটে অটো ভাড়া থাকতো না, এই ঝুটের টাকায় এখন তারা দামি গাড়িতে চড়েন।

অনুসন্ধান বলছে, পুরো বিসিক শিল্প নগরীর ঝুট সেক্টর থেকে সুবিধা নেওয়া তালিকায় প্রায় শতাধিক নাম থাকলেও বারবার উঠে আসছে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি এবং ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদের নাম। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ দুজনের অনুসারীরাই বারবার সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন। এতে করে বাকি সুবিধা ভোগীরা পর্দার আড়ালেই থেকে যাচ্ছেন।

আর তাই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিকেএমইএ’র উচিত বিসিকের ঝুট সেক্টর থেকে সুবিধা নেয়া সকলের নাম প্রকাশ করে সবার মুখোশ উন্মোচন করে দেয়া। যাতে করে নারায়ণগঞ্জের মানুষ তাদের চিনতে পারে, তাদের সম্পর্কে জানতে পারে। সুবিধা নেবে সবাই আর বদনাম হবে রনি-রাসেলের তা হতে পারে না।

আরও পড়ুন