সাখাওয়াতের পাশে হাইব্রিড কামাল-শাহিন, তৃণমূলে ক্ষোভ
নারায়ণগঞ্জ মেইল: নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের পাশে এখন সার্বক্ষণিক দেখা যায় হাজী কামাল এবং হাজী শাহীন নামের দুই বিএনপি নেতাকে যাদেরকে ৫ আগস্টের আগে কোনো আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে দেখা যায়নি। বর্তমানে সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন থেকে শুরু করে রাজপথের যে কোনো কর্মসূচিতে এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে সার্বক্ষণিক সঙ্গি হিসেবে এই দুজনের দেখা মেলে।
এদিকে দীর্ঘদিন সাখাওয়াতের সাথে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করা নেতাকর্মীরা হাজী কামাল এবং হাজী শাহিনের উপস্থিতি মেনে নিতে পারছে না। তাদের মতে এই দুই হাইব্রিড নেতা সুসময়ের বন্ধু, রাজনীতির অতিথি পাখি। এরা মধু খাওয়ার জন্য ভিড় জমিয়েছে, মধু খাওয়া শেষ হলে আবার তারা হারিয়ে যাবে।
সাখাওয়াত হোসেন খানের দীর্ঘদিনের সহযাত্রী কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দলের দুঃসময়ে আমরা জীবন বাজি রেখে সাখাওয়াত হোসেন খানের পাশে ছিলাম কিন্তু দলের সুসময়ে আমাদের নেতা যখন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন তখন আমাদের ভুলে গিয়ে হাজী কামাল এবং হাজী শাহীনকে নিয়ে সবসময় চলাফেরা করেন, সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেন।
নেতাকর্মীরা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, হাজী কামাল হাইব্রিড নেতা। বিএনপির কোনো আন্দোলন সংগ্রামে কখনো ছিল না। তার কোনো পদ পদবী নাই। কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাকে কখনো দেখি নাই কিন্তু ৫ আগস্টের পরে তিনি নিয়মিত এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের পিছে পিছে ঘুরতে থাকেন। নেতাও তাকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে বিএনপি নেতা বানানোর চেষ্টা করছেন। এছাড়া হাজী শাহীনের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগ করে। তিনি একসময় বিএনপি করতেন কিন্তু গত আট-দশ বছর যাবত রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন। স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলনে হাজী শাহীনকে দেখা যায় নাই। তিনিও ৫ আগস্টের পরে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গী হয়ে যান। এ দুজনের কারণে ত্যাগী নেতাকর্মীরা সাখাওয়াত হোসেন খানের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন বলে অভিমত তাদের তাই অবিলম্বে সাখাওয়াত হোসেন খানের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক এমনটাই দাবি করেছেন তারা।
