সভাপতি হয়েই যুবদলে ফিরবেন জোসেফ

নারায়ণগঞ্জ মেইল: নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল শুরু থেকেই দুটি ভাগে বিভক্ত। সংগঠনের বর্তমান আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল এবং সদস্য সচিব শাহেদ আহমেদের নেতৃত্বে রয়েছে একটি অংশ আর অপর একটি অংশের নেতৃত্ব দেন সাবেক ছাত্রদল সভাপতি মাজহারুল ইসলাম জোসেফ। মহানগর যুবদলের বিগত কমিটি ১ নং সদস্য ছিলেন জোসেফ।

বর্তমান কমিটিতে পদ পদবী না থাকলেও জোসেফের রয়েছে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা এবং বিশাল কর্মী বাহিনী। বিশেষ করে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের আমলে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মাজহারুল ইসলাম জোসেফ এবং তার অনুসারীরা। সজল-সাহেদের পুরো কমিটির চেয়ে বেশি সরকার বিরোধী মিছিল হয়েছে জোসেফের নেতৃত্বে। এছাড়াও ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জের রাজপথ দখলে রেখেছিলেন জোসেফ। ছাত্র জনতার সাথে মিশে গিয়ে আওয়ামী লীগ ও তার হায়েনা বাহিনীর বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।

রাজপথে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের সুফল খুব শীঘ্রই পেতে যাচ্ছেন মাজহারুল ইসলাম জোসেফ। নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটি আসতে যাচ্ছে আর সেই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন জোসেফ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে জোসেফের নেতৃত্বে আবারো রাজপথে নামবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীরা।

অপরদিকে ২০২৩ সালের ২৯ আগষ্ট মনিরুল ইসলাম সজলকে আহবায়ক, সাগর প্রধানকে সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও সাহেদ আহমেদকে সদস্য সচিব করে ঘোষনা করা হয় মহানগর যুবদলের তিন সদস্যের আহবায়ক কমিটি। প্রায় দেড় বছর তিনজন দিয়ে মহানগর যুবদলের কমিটি চলার পরে ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি ৫১ সদস্যের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

দীর্ঘদিন পর মহানগর যুবদলের ৫১ সদস্য আহবায়ক কমিটি গঠিত হলেও আটকে আছে ইউনিট কমিটি গঠনের কাজ। রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়াই নারায়ণগঞ্জ মহানগর ও যুবদলের নেতাকর্মীরা ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে গেছে তবুও হাল ছাড়েনি। আশা ছিলো ৫ আগস্টের পরে তাদের সবগুলো কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবে আর তাদের বহুদিনের কাঙ্খিত রাজনৈতিক পরিচয় মিলবে কিন্তু তাদের ভাগ্যে আর শিকে ছিঁড়ে না। তাদের মনের আশাও পূর্ণ হয় না, রাজনৈতিক পরিচয়ও মিলে না।

২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি মহানগর যুবদলের ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। মূল সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর শুরু হয় ইউনিট কমিটি গঠনের কাজ। এ লক্ষ্যে পরপর বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে কর্মীসভাও অনুষ্ঠিত হয় কিন্তু হঠাৎ করে মাঝপথে এই কার্যক্রম হোঁচট খেয়ে পড়ে। আটকে যায় কর্মী সম্মেলন, বন্ধ হয়ে যায় ইউনিট কমিটি গঠনের কার্যক্রম। নেতাকর্মীদের কাছে যুবদলের পদ পদবী সোনার হরিণ হয়েই থাকলো।