এক পরিবারে একাধিক পদের কড়া সমালোচনায় আইনজীবী নেত্রী বিথি
নারায়ণগঞ্জ মেইল: বিএনপি রাজনীতিতে এক পরিবার থেকে একাধিক পদ পদবী দেওয়ার নীতি বন্ধ করা উচিত বলে মনে করেন আইনজীবী নেত্রী এডভোকেট আসমা হলেন বিথি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি গত ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করা নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে এক পরিবারে একাধিক পদ দেয়া হবে না বলে ঘোষণা হয়েছিলোৎকিন্তু মাঠ পর্যায়ে এর বাস্তবায়ন খুব কম দেখা যাচ্ছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিশেষ করে সংসদ সদস্যদের সন্তানরা একাধিক পথ দখলের পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ তৃণমূলের। এমপি পরিবারে যদি একাধিক পদ চলে যায় তাহলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা যারা গত ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করে রক্ত ঝরিয়েছেন তাদের মূল্যায়ন কিভাবে হবে- এই প্রশ্ন এখন সর্বমহলে।
তৃণমূলে এই বৈষম্য দূর করতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট আসমা হেলেন বিথি।
ফেসবুক পোস্টে অ্যাডভোকেট আসমা হেলেন বিথি উল্লেখ করেন “দল শক্তিশালী হয় ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতাকর্মীদের হাত ধরে। দলীয় পদ-পদবী বণ্টনের ক্ষেত্রে এমন একটি নীতি থাকা উচিত, যাতে একই পরিবারের একাধিক সদস্য—যেমন স্বামী-স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে বা নিকট আত্মীয়—একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পদে না থাকেন।
এতে নতুন, ত্যাগী, সৎ ও পরিশ্রমী নেতাকর্মীরা নেতৃত্বে আসার সুযোগ পাবেন। নেতৃত্বে বৈচিত্র্য বাড়বে, কর্মীদের মধ্যে আস্থা ও উৎসাহ সৃষ্টি হবে এবং দল আরও গণমুখী ও শক্তিশালী হবে।
দলের স্বার্থে ব্যক্তির নয়, যোগ্যতা, ত্যাগ ও নিষ্ঠাকেই সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হোক। দল কোনো পরিবারের সম্পত্তি নয়, এটি হাজারো ত্যাগী নেতাকর্মীর ঘাম ও ত্যাগের ফসল।
একই পরিবারের একাধিক সদস্য যদি দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবীতে থাকেন, তাহলে অনেক যোগ্য, ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতাকর্মী নেতৃত্বের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এতে কর্মীদের মনোবল কমে যায় এবং নেতৃত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
দলকে আরও শক্তিশালী, গণমুখী ও গতিশীল করতে হলে পদ-পদবী বণ্টনে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও ত্যাগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নেতৃত্বে নতুন মুখ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের সুযোগ নিশ্চিত করাই একটি সুস্থ ও শক্তিশালী সংগঠনের পরিচয়। এক পরিবারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ নয়— এটা হোক আজকের শিরোনাম।
বিগত ১৭/১৮ বছর আমি যেমনি আদালত অঙ্গনে দলের জন্য নিবেদিত ভাবে শ্রম দিয়ে আসছি, কোর্ট অঙ্গনের প্রতিটি ব্যক্তির আওয়ামী, জামাত, পেশকার পিয়ন, দোকানদার থেকে শুরু করে সকলেই এ বিষয়ে অবগত বা দেখছেন এমনকি সাংবাদিক ভাই-বোনেরাও দেখেছেন যে, আমি দলের জন্য কতটা নিবেদিত ছিলাম এবং এখনো আছি, বিনিময়ে একটা চেয়ার চেয়েছি… কিন্তু পেয়েছি…কি….?
ঠিক তেমনি রহিমা শরীফ মায়া আপাকেও সেই কলেজ জীবন থেকেই দেখে এসেছি যে, মহিলা কলেজের নেত্রী হিসেবে। তাছাড়া তিনি বিগত বছর গুলোতে সব সময় দলের প্রতিটি কাজে আন্দোলন -সংগ্রাম থেকে শুরু করে সবকিছুতে দলের নিবেদিত প্রান। বিনিময়ে কি পেয়েছেন কোন গুরুত্বপূর্ণ চেয়ার… পান নি….? আমি কোন ভয়, লোভ, বা মিথ্যা বা বানানো গল্পথেকে কথাগুলো বলিনি। যেটা সত্য ও বাস্তব সেই কথাগুলোই বললাম।
আমি আমার এই লেখা আমাদের প্রানপ্রিয় লিডার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান পযর্ন্ত নিয়ে যেতে চাই এবং দল থেকে যেন মায়া- বিথীর মতো যোগ্য ও পরিশ্রমী নেতা-কর্মী হারিয়ে না যায় এই অনুরোধ করতে চাই।”
