মেয়র হওয়ার লোভেই কি আপোষ ?

নারায়ণগঞ্জ মেইল: নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী তার প্রতিবাদী চরিত্র হারিয়েছেন। জেল থেকে ফিরে আসার পর তার সেই প্রতিবাদী আচরণ দেখা যাচ্ছে না বরং তার মধ্যে আপোষের ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আইডির এই পরিবর্তিত রূপ দেখে নানাবিধ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে নগরবাসীর মনে। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে কিসের লোভে প্রতিবাদী আইভী আজ আপোষ করলেন ?

আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভীর এই আপোসকামী মনোভাবের কারণ খুঁজতে গিয়ে সর্বমহলে যে কথাটি উচ্চারিত হচ্ছে তা হচ্ছে সিটি মেয়র হওয়ার লোভ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন ডাক্তার সেলিনা হায়াত আইভী। ক্ষমতার চেয়ার তাকে তার চরিত্র বদলে ফেলতে বাধ্য করেছে বলে মনে করছেন রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা। আর তাইতো সরকারি দল এবং তার বিচার বিভাগের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হচ্ছেন তিনি। এতে করে বিএনপির মন জয় করে পুনরায় সিটি মেয়র হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

ঘটনা সূত্রে প্রকাশ, দীর্ঘ ১৩ মাস পর কারামুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী সেলিনা হায়াত আইভীর গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। বক্তব্যে বিএনপি সরকার এবং বিচার বিভাগের প্রশংসা করেন আইভী। আর এতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সেই সাথে রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের রহস্য সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ গঠনে আইভীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে।

কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সেলিনা হায়াত আইভি বলেছেন, আমি বিচার বিভাগে ও সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি আশা করি সবাইকে নিয়ে মানবিক সরকার গঠিত হোক।

আইভীর এমন বক্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আইভীকে আওয়ামী লীগ ভাঙ্গার নেপথ্য কারিগর হিসেবে উল্লেখ করে পোস্ট দিতে থাকেন। সেই সাথে আইভীর এই আচরণে হুঁশিয়ারি জানান তারা। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে মাইনাস করে আওয়ামী লীগ গঠনের চেষ্টা করা হলে আইভীকে এর করা মাশুল দিতে হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, যে বিচার ব্যবস্থায় শেখ হাসিনাকে ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছে, লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীকে মামলা দেয়া হয়েছে, হাজার হাজার নেতাকর্মী জেল খাটছে সেই বিচার ব্যবস্থার প্রশংসা করে আইভী আওয়ামী লীগে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। তার এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় তিনি আওয়ামী লীগ ভাঙ্গার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, বুধবার (৩ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে বারোটায় নগরীর দেওয়া ভোগে অবস্থিত চুনকা কুটিরে নিজ বাসভবনে পৌঁছে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।  এর আগে বেলা দশটায় তিনি গাজীপুরের কাশিমপুরের মহিলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। তার বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যার ১২ টি মামলা রয়েছে।