চারজনের দুজনই ভারপ্রাপ্ত, বেহাল না:গঞ্জ বিএনপি

নারায়ণগঞ্জ মেইল: নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ চারটি পদের দুজনই ভারপ্রাপ্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘদিন যাবত। সেই জানুয়ারিতে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়ায় জেলা বিএনপির আহবায়ক এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে আর তৈমূরকে সহযোগিতা করায় মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। এতে করে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক হন ১ম যুগ্ম আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি এবং মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন ১ম যুগ্ম সম্পাদক আ: সবুর সেন্টু। অবশ্য এটিএম কামাল বছরের বেশিরভাগ সময় দেশের বাইরে থাকায় বহু আগে থেকেই আ: সবুর সেন্টুকে এই ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। সংগঠনের মূল চার পদের দুটিই ভারপ্রাপ্ত হলে আন্দোলন সংগ্রাম কিভাবে চাঙ্গা হবে সেই প্রশ্ন এখন তৃণমূলে।

জানা যায়, ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন হয়েছিলো তিনমাসের জন্যে। কথা ছিলো তিনমাসের মধ্যে এই কমিটি সকল ইউনিট কমিটি গঠন করে জেলা বিএনপির সম্মেলন আয়োজন করবে। কিন্তু তিনমাসের কমিটি দেড় বছর পার করলেও সেই কাঙ্খিত কাজটি এখনো করতে পারেনি জেলা বিএনপি বরং একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে ব্যর্থতার পাল্লা কেবল ভারী করেই চলেছে তারা।

এর আগে কাজী মরিুজ্জামান মনির ও অধ্যাপক মামুন মাহমুদের নেতৃত্বধীন জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয় ২০২০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। এরপর ২০২১ সালের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি এড. তৈমূর আলম খন্দকারকে আহবায়ক এবং অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্যের আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়। এই কমিটিকে তিন মাস সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিলো তাদের আওতাধীন ১০টি ইউনিট কমিটি গঠন করে জেলা কমিটির সম্মেলন আয়োজনের জন্যে। কিন্তু ১০টি ইউনিট কমিটি ঘোষনাকে কেন্দ্র করে তৈমূর ও মামুন মাহমুদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম দূর্নীতি ও কমিটি বানিজ্যের অভিযোগ উঠে।
এরই মাঝে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন চলে আসে। দলীয় নির্দেশ অমান্য করে এ নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হন জেলা বিএনপির আহবায়ক এড. তৈমূর আলম খন্দকার। এই অপরাধে প্রথমে তাকে জেলা বিএনপির আহবায়ক পদ থেকে অব্যহতি দেয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাকে বিএনপির সকল পদ থেকে বহিস্কার করা হয়। তৈমূরের বহিস্কারে জেলা বিএনপির ১ম যুগ্ম আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবিকে ভারপ্রাপ্ত আহবায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এদিকে নাসিক নির্বাচনের আগমুহুর্তে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবিকে হেফাজতের মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ। তখন ২য় যুগ্ম আহবায়ক নাসিরউদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত আহবায়কের দাত্বি তুলে দেওয়য়া হয়। এ সময়ে ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক নাসিরউদ্দিন ও সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুুন মাহমুদ মিলে গত ২০ জানুয়ারি জেলা বিএনপির আওতাধীন ১০টি ইউনিট কমিটির অনুুমোদন দেন। এই ইউনিট কমিটি অনুমোদন নিয়েও সমালোচনা ঝড় উঠে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযেযাগ, টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের পদায়ন করা হয়েছে আার মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের করা হয়েছে বঞ্চিত।
তাছাড়া ঘোষিত ১০টি ইউনিট কমিটির বেশীরভাগেই রয়েছে দলীয় কোন্দল আর বিভক্তি। এ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। ইতিমধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিটি বাতিল করা হয়েছে অথচ একই অভিযোগে বহাল রয়েছে ফতুল্লা থানা কমিটি। রূপগঞ্জের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন সম্মেলন ছাড়াই স্থানীয় একজন প্রভাবশালী বিএনপি নেতার ঢাকার অফিসে বসে নিজেদের পছন্দমতো গঠন করা হয়েছে ১০টি ইউনিয়ন কমিটি।

তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতারাও বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে যাচ্ছেন। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়য়ক ও ফতুল্লা থানা বিএনপির আহবায়ক জাহিদ হাসান রোজেলের বিরুদ্ধে অভিেেযাগ ্উঠেছে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধীতে যাওয়ার। এ বিষয়ে জেলা বিএনপি আজহারুল ইসলাম মান্নানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছিলো এবং সে কমিটি বিষয়টিতে রোজেলের সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছে। তাছাড়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য রিয়য়াদ মো: চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির পরিবারের বিরুদ্ধে অশালীন পোষ্টার ছাপানো এবং তা বিতরণ করার। এসব বিষয়ে বারবার বিতর্কিত হয়ে পরছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান আহবায়ক কমিটি।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির নেতারা কোনোক্রমে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চালিয়ে নিচ্ছেন দলীয় কার্যক্রম। নতুন কমিটির অভাবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে হতাশা। তাছাড়া সংগঠনের সভাপতি এড. আবুল কালামের নিস্ক্রিয়তা আর সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল দল থেকে বহিস্কার হয়ে যাওয়ায় রীতিমত অভিভাবকহীন হয়ে পরেছেন মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাই মহানগর বিএনপির এই অচলাবস্থা কাটাতে নতুন কমিটি গঠনের জোর দাবি এখন তৃণমূূলে। মহানগর বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে আছেন নতুন কমিটি ঘোষনার দিকে। কারন দায়সারা কর্মসূচি পালন করতে করতে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পরেছেন। নতুন নেতৃত্বে নতুন করে ঘুরে দাড়ানোর লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে রাজপথের ত্যাগী নেতাদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি ঘোষনার দাবি এখন সর্বত্র।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

নারায়ণগঞ্জ মেইলে এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

সর্বশেষ