গরুর হাটের তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রাজীব-মন্তু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে
নারায়ণগঞ্জ মেইল: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জের ৮নং ওয়ার্ডের ইব্রাহীম টেক্সটাইল মিল বালুর মাঠের কুরবানীর পশুর হাট পরিচালনায় অর্থ লোপাটের নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা লোপাট করেছেন বিএনপির ৬ জন নেতার একটি সিন্ডিকেট।
শুধু তাই নয়, হাটে বিনিয়োগকারী শেয়ার হোল্ডারদের মুলধন আত্মসাতের চেষ্টা করে যাচ্ছেন নেতারা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মাধ্যমে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
স্থানীয়রা জানান, ৮নং ওয়ার্ডের ইব্রাহীম টেক্সটাইল মিলের বালুর মাঠের হাটটির সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৪৬ লাখ টাকায় সিটি কর্পোরেশন থেকে হাটটির ইজারা পান মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মমতাজ উদ্দীন মন্তু।
সিটি কর্পোরেশনের আহ্বানকৃত মুল্য ছিলো ৪৫ লাখ টাকা। অথচ গত বছর এই হাটের ইজারা ছিল ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সেখানে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিএনপির নেতাকর্মীদের সুবিধার্থে ৪৫ লাখ টাকায় বাজারমুল্য নির্ধারণ করে ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।
এই হাটটিসহ ১০নং ওয়ার্ডের চিত্তরঞ্জন মাঠের হাট পরিচালনার দায়িত্ব নেন একই কমিটি। দুটি ওয়ার্ডের নেতারা মিলিত হয়ে দুটি হাট পরিচালনা করেন। যেখানে চিত্তরঞ্জন হাটের ইজারা পান মন্তুর ভাগিনা মহানগর যুবদলের সদস্য আরমান হোসেন। দুটি হাটের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব। ঈদ শেষে ইব্রাহীম টেক্সটাইল মিলের হাটে ৭৬ লাখ টাকা লভ্যাংশ এবং চিত্তরঞ্জন হাটে সাড়ে ৫ লাখ টাকা লোকসান দেখান মামা ভাগিনা।
কিন্তু এই ঘটনার অন্তরালে ঘটে গেছে বিরাট দুর্নীতির ঘটনা। যেখানে ইব্রাহীম টেক্সটাইল মিলের হাটে হাসলি আদায় করা হয় ৫ হাজার পশুর। যেখানে মোট হাসলি আদায় হয় প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার। কিন্তু হাট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সহ-সভাপতি ডিএচ বাবুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাধীন, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মমতাজ উদ্দীন মন্তু, মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাগর প্রধান ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেন খোকন দেড় হাজার ইজারা আসলির মুড়ি বই সরিয়ে ফেলেন। যেখানে প্রায় দেড় কোটি টাকা তারা লোপাট করে ফেলেন।
ইজারাদার মন্তু নেতাকর্মীদের কাছে দাবি করেছেন, সাড়ে ৩ হাজার হাসলি কাটা হয়েছে। তার হিসেবেই সাড়ে ৩ কোটি টাকা হাসলি ওঠেছে। কিন্তু পৌনে তিন কোটি টাকা খরচ দেখিয়ে মন্তু দাবি করছেন মাত্র লভ্যাংশ হয়েছে ৭৬ লাখ টাকা! নেতাকর্মীরা হিসেবে চাইতে পারে সেই ভয়ে এই সিন্ডিকেটের সকলেই আত্মগোপনে চলে গেছেন।
মন্তুকে খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা। শুধু লভ্যাংশই তারা ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা লোপাট করে এখন শেয়ার হোল্ডারদের বিনিয়োগকৃত টাকা ফেরত দিচ্ছেনা। অর্থ লোপাট ও আত্মসাত নিয়ে ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি সামুসউদ্দীন শেখ ও জেলা তরুণ দলের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম ফেসবুকে এসব বিষয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
নেতাকর্মীরা বলছেন, দেড় হাজার হাসলি সরিয়ে দেড় কোটি টাকা ও পরবর্তীতে আরো ১ কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি লোপাট করেছেন এই সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য সাগর প্রধান ঈদের দুদিন আগেই রাতের আধারে এক ট্যাংক টাকা নিয়ে অন্যত্র চলে যান বলে স্বেচ্ছাসেবীরা দেখতে পান। এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজিব মুঠোফোনে জাগো নারায়ণগঞ্জ ২৪. কমকে বলেন,সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা।আমি মিউচুয়াল করে দিয়েছি।যারা অভিযোগ করেছে তাদের আসতে বলেন।সামনা সামনি কথা বলে জেনে তারপর যা করার কইরেন।
মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মমতাজ উদ্দিন মন্তু বলেন,অভিযোগের সততা কি? যারা পুঁজি দিছে আমি ও রাজিব ভাই লভ্যাংশের টাকা দিয়ে দিছি।২/৪ জন আছে যারা পুঁজি না দিয়ে লভ্যাংশ চায়।তারা গ্রাম ভরে বলে বেড়াচ্ছে টাকা দেই নাই।আপনি সততা যাচাই করেন।
মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সাগর প্রধানের মুঠোফোন নাম্বারে ৩ কল করা হয়।রিং হলেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
