নৈতিক স্খলন প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেবো: জোসেফ
নারায়ণগঞ্জ মেইল: নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি এবং মহানগর যুবদল নেতা কেএম মাজহারুল ইসলাম জোসেফ ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, আমি উন্মুক্ত বলছি যদি কোথাও কোনো নৈতিক স্খলন নেতিক কোনো বিষয় থাকে আমি যদি সেখানে দোষী হয়ে থাকি তাহলে রাজনীতি থেকে স্বইচ্ছায় ঘোষণা দিয়ে পদত্যাগ করবো।
তিনি বলেন, আমরা নৈতিক স্খলনের জায়গায় আমরা অনেক শক্ত। আমরা জনগণের স্বার্থে কাজ করি। তারেক জিয়ার নির্দেশিত পথে চলি। আমাদের উপড় মিথ্যা আরোপ করে ক্ষতি করার সুযোগ নাই। আমরা অনেক শক্তিশালী মানসিক শারীরিক আধ্মাতিক ধর্মীয়ভাবে। আমরা ওইদিকে যাবো না। এটা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের বিষয় এবং স্থানীয় নেতারা দেখবেন বুঝবেন। সেটা নিয়ে আমরা মাথাব্যাথা নেই।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি, স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান বক্তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এদিন বন্দরের রুপালি এলাকায় বন্দর থানা যুবদলের উদ্যোগে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। আর এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।
কেএম মাজহারুল ইসলাম জোসেফ বলেন, রাজনীতি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এখানে বিভিন্ন ধরনের বিষয় থাকে। আমরা মাঠের লোক; আমরা মাঠের কৃষাণ। আমাদের ভয়ের কিছু নেই। আমরা কাজকে বিশ^াস করি; জনগণকে বিশ^াস করি। জনগণের কাজের জন্য আমরা সর্বদাই নিয়োজিত।
তিনি আরও বলেন, আমরা কাজ চালিয়ে যাবো; বরং কাজের গতি আরও বাড়বে। আমরা কমিটি নিয়ে কখনও কথা বলিনাই। আমরা আমাদের মতো কাজ করছি তারা তাদের মতো কাজ করবে। আমাদের নিয়ে হয়তো তারা টেনশন ফিল করে। আমরা কাজ করে আরও এগিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শক্তিকে শক্তিশালী অবস্থানে নেয়ার স্বপ্ন দেখি। আমাদের কোনো যাদুমন্ত্রে থামানো যাবে না।
জানা যায়, গত ১১ জুন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া সাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করা যাচ্ছে যে, কে এম মাজহারুল ইসলাম জোসেফ নামে জনৈক এক ব্যক্তি বিভিন্ন জায়গায় নিজেকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের বর্তমান কমিটির পদবিধারী নেতা পরিচয়ে প্রদান করছে কেন্দ্রের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে মহানগর যুবদলের আহবায়ক মনিরুল ইসলাম সজল ও সদস্য সচিব শাহেদ আহমেদ এর নেতৃত্বে বর্তমান ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জোসেফ নামে কেউ নাই। তার এ অনৈতিক কর্মকা-ের কোন দায়বার যুবদল বহন করবে না।
কিন্তু যুবদলের এই বিবৃতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীরা। তারা এই বিষয়টিকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান মৃধা বলেন, অনেক বলছে কেএম মাজহারুল ইসলাম জোসেফ যুবদলের কেউ না। তাকে যুবদলের কমিটিতে রাখা হয়নি। কিন্তু কেন রাখা হয়নি তা কেউ জানে না। বর্তমান যুবদলে যারা আছে তারা সকলেই মাজহারুল ইসলাম জোসেফের জুনিয়র। একজন সিনিয়রকে নিচে রেখে জুনিয়রকে কিভাবে উপড়ে রাখা যায়? এজন্য কেন্দ্র জোসেফ ভাইকে বারবার জিজ্ঞাসা করছে তোমাকে কোথায় রাখবো? পরে জোসেফ ভাই নিজেই বলেছেন আমি এই কমিটিতে থাকবো না। এই কারণে জোসেফ ভাইকে কমিটিতে রাখা হয়নি। মিথ্যা দিয়ে সত্যকে ঢাকা যায় না। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কমান্ডার সিরাজুল ইসলামের হাত ধরে। আর সেই পরিবারের সন্তান মাজহারুল ইসলাম জোসেফ। হতাশ হওয়ার কিছু নাই।
বন্দর থানা যুবদলের সভাপতি মোঃ আমির হোসেন বলেন, আন্দোলন সংগ্রামের সময়ে বন্দর থানা যুবদল যা করেছে তা জোসেফের নেতৃত্বেই হয়েছে। আর কেউ কিছু করতে পারেনি। যারা কমিটিতে আছে তাদের বিরুদ্ধে কয়টা মামলা আছে আর আমাদের বিরুদ্ধে কয়টা মামলা আছে তা দেখেন। যখন আন্দোলন সংগ্রাম ছিলো তখন বলতেন আমরা যুবদলের কেউ না। পুলিশের নির্যাতন নীপিড়নের শিকার হয়ে দল ক্ষমতায় আসছে আর এখন বলছেন আমরা কেউ না। এটা মেনে নেয়া যায় না।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি জুয়েল প্রধান বলেন, জোসেফ ভেসে আসেনি। নারায়ণগঞ্জের যুবদলের নেতৃত্ব দিয়েছি আমরা। ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিয়েছি আমরা। জোসেফের নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি।
বন্দর থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী বলেন, জোসেফের নেতৃত্বে দু:সময়ে যুবদলের নেতাকর্মীরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। সুসময়ে অনেক নেতাকর্মীরা জন্ম হয়েছে। আমরা তাদের অস্বীকার করছি না। বিএনপি বড় দল; এখানে পদ নিয়ে গ্রুপিং থাকবে। কিন্তু সন্তানকে অস্বীকার করবে; এরকম কোনো সিদ্ধান্ত আমরা বরদাশত করবো না।
এদিকে নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি সহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কোনো পদ পদবী না থাকলেও সবসময় সক্রিয় থাকেন এক সময়ের তুখোর ছাত্রনেতা মাজহারুল ইসলাম জোসেফ। এমন কোনো কর্মসূচি নেই যেখানে জোসেফ সহ তার অনুসারীদের কোনো অংশগ্রহণ থাকে না। দলীয় কর্মসূচি থেকে সামাজিক কার্যক্রমেও তার সরব ভূমিকা থাকে। সকল কর্মসূচিতেই তিনি যুবদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে জানান দিয়ে থাকেন। একই সাথে বিএনপির সকল কর্মসূচিতেও তার সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকে।
সেই সাথে বিএনপির রাজনীতিতে তার কোনো পদ পদবী নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি একটা বলয় গড়ে তুলেছেন। যখন বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে ছিলো সেই সময়কাল থেকে মাজহারুল ইসলাম জোসেফ নেতাকর্মীদের যে কোনো বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়াতেন। সেই ধারাবাহিকতা তিনি এখনও ধরে রেখেছেন। সবসময় তিনি নেতাকর্মীদের দ্বারা বেষ্টিত থাকেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও মাজহারুল ইসলাম জোসেফ তার অনুসারী নেতাকর্মীদের নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বিএনপি দলীয় মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আসন এলাকার পথে প্রান্তরে ছুটে বেড়িয়েছেন। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দর এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ক্রমাগতভাবে গণসংযোগ সভা সমাবেশ করে বেড়িয়েছেন। বিএনপি দলীয় মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে জনমত গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন।
একই সাথে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রত্যেক শাহাদাতবার্ষিকীতেও চমক দেখিয়েছিলেন কে এম মাজহারুল ইসলাম জোসেফ। মহানগর যুবদলের কোনো পদপদবীতে না থেকেও যুবদলের ব্যানারে টানা কয়েকদিন ধরে নানা কর্মসূচি পালন করে থাকেন। তার সকল কর্মসূচিতেই ছিলো ব্যাপকতা। এবারও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি, স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী তার আয়োজনের কোনো কমতি নেই। তার প্রত্যেক কর্মসূচিতেই শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে কর্মী পর্যন্ত পরিপূর্ণ ছিলো।
