মামুন মাহমুদের অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সভাপতি!

নারায়ণগঞ্জ মেইল: ফতুল্লা অঞ্চলে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গিয়াসউদ্দিনের পরিবার।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের পুরোটা সময় ফতুল্লার কাশীপুর ইউনিয়নের বিনাভোটের স্বঘোষিত চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ বাদলের জীবদ্দশায় সকল ধরনের উপঠৌকন দিয়ে তুষ্ট করার পাশাপাশি গডফাদার খ্যাত  শামীম ওসমানকে বিশাল অংকের অর্থায়নে ম্যানেজ করে পুরো কাশিপুর ইউনিয়নে রাম রাজত্ব চালিয়ে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়ে যান গিয়াস পরিবার।

যে পরিবারের মূল পেশা ছিল ছিচকে চুরি ও দেহ ব্যবসা। আশ্চর্য হলেও সত্য সেই পরিবার এখন শত কোটি টাকার মালিক।

বিগত সরকারের শাসনামলে এমন অপকর্ম করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়ার কারণে গিয়াস উদ্দিন পালিয়ে গেল তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বিএনপি নেতাদের নানান ভাবে ম্যানেজ করে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রেখে বীর ধরতে চালাচ্ছেন অপকর্ম।

বিশেষ করে ডাকাত গিয়াসপুত্র, কাশিপুর ইউনিয়ন ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম আহম্মেদের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

আজ শনিবার (২ মে) কাশিপুর খাল খনন কর্মসূচিতে সেই ডাকাত গিয়াস পুত্র শামীমের  উপস্থিতি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, দলীয় পদে থাকার পরও সরকারি কার্যক্রমে তার অংশগ্রহণ নিয়ে স্বচ্ছতা ও নীতিগত প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এই ধরনের অংশগ্রহণ প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এছাড়া গিয়াস উদ্দিনের অতীতে চুরি,  ডাকাতি,  চাঁদাবাজি,  ছিনতাই, গ্যাস ও বিদ্যুৎ চুরি, নারী কেলেংকারী ছড়াও ভূমিদস্যুতার মতো লোমহর্ষক কর্মকাণ্ড নিয়েও এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে।

বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানো, অনিয়ম ও বিতর্কিত কার্যক্রমের অভিযোগ উঠেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে যদি কেউ সরকারি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে, তবে তা সুশাসনের জন্য হুমকি হতে পারে। তারা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

উল্লেখিত খাল খনন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) হাসিনুজ্জামান, ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু, সাধারণ সম্পাদক বারী ভুইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী সহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে সেই আওয়ামী লীগের গডফাদার শামীম ওসমানের অন্যতম হাতিয়ার শামীম আহমেদ বীরের বেশে দেখতে পেয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

আর এ সময় অনেকের মুখে উচ্চারিত হয়, “একেই বলে সঙ্গে থাকলে সঙ্গে না থাকলে জঙ্গি !  শামীম ওসমানের এই দোসর এবং আওয়ামী লীগ নেতা কত টাকায় বিএনপি’র নেতাদের ম্যানেজ করে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছে তা এখন তদন্তের বিষয়।