নারায়ণগঞ্জ মেইল: নারায়ণগঞ্জের ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করা বিশাল চ্যালেঞ্জের কাজ ছিলো কিন্তু সেই কঠিন কাজটা সহজেই করে ফেললেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে দলমত নির্বিশেষে নারায়ণগঞ্জের সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে চাষাড়া থেকে নিতাইগঞ্জ পর্যন্ত দুইপাশের সড়কের ফুটপাত দখল মুক্ত করেন। এ সময় হাজার হাজার নগরবাসী উচ্ছেদ কাজে অংশ নেন এবং প্রশাসক ও এমপির উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।
অথচ এই ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে তুলকালাম কান্ড দেখেছে নগরবাসী। ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষে হয়েছে। গোলাগুলি আর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল পুরো নারায়ণগঞ্জ শহর। সংঘর্ষের এক পক্ষে ছিলেন তৎকালীন সিটি মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী আর অন্য পক্ষে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান।
সিটি মেয়র আইভীক চেয়েছিলেন নগরীর ফুটপাত থেকে অবৈধ হকারদের উচ্ছেদ করে দিতে কিন্তু সাংসদ শামীম ওসমান হকারদের পক্ষ নিয়েছিলেন এবং যেকোনো মূল্যে হকারদের ফুটপাতে বসানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। মূলত মেয়র এবং সাংসদের ব্যক্তিগত বিরোধ এবং সমন্বয়হীনতার কারণে নারায়ণগঞ্জের ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করা যায়নি। তৎকালীন আওয়ামীলীগ হকার নিয়ে রাজনীতি করেছে।
তবে ২০২৬ সালে এসে নারায়ণগঞ্জের ফুটপাত হকার মুক্ত হয়েছে। আর এই সফলতার নেপথ্যে রয়েছে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এবং সংসদ সদস্যের মাঝে চমৎকার সমন্বয়ে আর বোঝাপড়া। নাসিক প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও সাংসদ এডভকেট আবুল কালাম নারায়ণগঞ্জের সকল দল ও মতের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে নগরীর বিষফোঁড়া ফুটপাতের অবৈধ হকার উচ্ছেদ করতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের এই মিলিত প্রয়াস ভবিষ্যতে অটুট থাকলে নগরবাসীর বাকি সমস্যাগুলোও খুব দ্রুত সমাধান করা সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট সকলে।
প্রসঙ্গত, হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও মেয়র আইভীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। দুই পক্ষের সংঘর্ষে আইভীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর শামীম ওসমানের অনুসারীদের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় অভিযোগ দেন সিটি মেয়র। অভিযোগটি প্রথমে সাধারণ ডায়েরি হিসেবে রেকর্ড করা হলেও ঘটনার ২২ মাস পর আদালতের নির্দেশে মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ। মামলায় শামীম ওসমানের অনুসারী ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৯০০-১০০০ জনকে আসামি করা হয়। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। দীর্ঘসময় তদন্ত শেষে গত ২৩ নভেম্বর অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
