হাসিনার ফাঁসির রায় দেয়া বিচার বিভাগেই আইভীর আস্থা
নারায়ণগঞ্জ মেইল: বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বেশ কয়েকজনের ফাঁসির রায় ঘোষণা করা হয়েছে। আরো অসংখ্য মামলা বিচারাধীন রয়েছে। জেল খাটছেন সাবেক অনেক মন্ত্রী এমপি থেকে শুরু করে সাধারণ নেতা কর্মীরা। আসামী হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন লক্ষ লক্ষ আওয়ামী লীগ কর্মী।
যে বিচার বিভাগে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় ঘোষণা করা করেছে সেই বিচার বিভাগের উপরেই আস্থা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লগের সহ-সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াত আইভী। সেই সাথে প্রশংসা করেছেন বর্তমান বিএনপি সরকারের, যা জনমনে রহস্যের সৃষ্টি করেছে। আওয়ামী লীগের পদ পদবী থেকে দলীয় প্রধানের ফাঁসির রায় ঘোষণা করা বিচার বিভাগে উপর আস্থা পোষণ করা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আইভীর এই বিরূপ আচরণ দলীয় নেতাকর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে বলে প্রকাশ পেয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ছাত্র জনতা উপর গুণী বর্ষণ ও গণহত্যার অভিযোগে সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে শত শত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদেরও আসামি করা হয়েছে। সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক গোলাম দস্তগীর গাজী, ডাক্তার দীপু মনি, জুনায়েদ আহমেদ পলক, সালমান এফ রহমান সহ অসংখ্য নেতাকর্মী জেল খাটছেন।
এসব মামলা গুলোর মধ্যে ইতিমধ্যে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সহ বেশ কয়েকজনের ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছে। বাকি মামলাগুলো চলমান রয়েছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বিভিন্নভাবে এই বিচার বিভাগের বিরোধিতা করে আসছে এবং তাদের নেতাকর্মীদের মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানাচ্ছে।
এদিকে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে চলমান বিচার বিভাগকে প্রশংসায় ভাসালেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ নেত্রী ডাক্তার সেলিনা হায়াত আইভী। সেই সাথে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন সরকারের প্রতিও যা আওয়ামী লীগের চলমান রাজনৈতিক নীতি আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক।
সূত্র বলছে, দীর্ঘ ১৩ মাস পর কারামুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী সেলিনা হায়াত আইভীর গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। বক্তব্যে বিএনপি সরকার এবং বিচার বিভাগের প্রশংসা করেন আইভী। আর এতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সেই সাথে রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের রহস্য সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ গঠনে আইভীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে।
কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সেলিনা হায়াত আইভি বলেছেন, আমি বিচার বিভাগে ও সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি আশা করি সবাইকে নিয়ে মানবিক সরকার গঠিত হোক।
আইভীর এমন বক্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আইভীকে আওয়ামী লীগ ভাঙ্গার নেপথ্য কারিগর হিসেবে উল্লেখ করে পোস্ট দিতে থাকেন। সেই সাথে আইভীর এই আচরণে হুঁশিয়ারি জানান তারা। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে মাইনাস করে আওয়ামী লীগ গঠনের চেষ্টা করা হলে আইভীকে এর করা মাশুল দিতে হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, যে বিচার ব্যবস্থায় শেখ হাসিনাকে ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছে, লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীকে মামলা দেয়া হয়েছে, হাজার হাজার নেতাকর্মী জেল খাটছে সেই বিচার ব্যবস্থার প্রশংসা করে আইভী আওয়ামী লীগে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। তার এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় তিনি আওয়ামী লীগ ভাঙ্গার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, বুধবার (৩ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে বারোটায় নগরীর দেওয়া ভোগে অবস্থিত চুনকা কুটিরে নিজ বাসভবনে পৌঁছে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এর আগে বেলা দশটায় তিনি গাজীপুরের কাশিমপুরের মহিলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। তার বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যার ১২ টি মামলা রয়েছে।
