প্রভাবশালীদের আসনে সাদামাটা এমপি নজর কেড়েছেন সবার
নারায়ণগঞ্জ মেইল: নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন মানেই ছিল প্রভাব, প্রতাপ আর ক্ষমতার দাপট। বিগত ২০ বছরে যারা এই আসনে এমপি হয়েছেন, তারা ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী। সাধারণ মানুষের সাথে তাদের দূরত্ব ছিল আকাশ-পাতাল। কোনো সরকারি অনুষ্ঠান বা দলীয় প্রোগ্রাম ছাড়া তাদের দেখা পাওয়া ছিল সোনার হরিণ।
সর্বশেষ এমপি শামীম ওসমান। তার সময়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ ছিল আরও বেশি। দিনের পর দিন তার বাসার সামনে অপেক্ষা করেও দেখা মিলতো না। তার সাথে কথা বলতে হলে কয়েক হাত ঘুরে আসতে হতো।
সেই অন্ধকার যুগের অবসান হয়েছে। ২০২৪ সালের পর নতুন বাংলাদেশে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এসেছে নতুন সূর্য। বর্তমান এমপি এনসিপি সাংসদ আব্দুল্লাহ আল আমিন পুরো চিত্রটাই পাল্টে দিয়েছেন।
এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিনের মধ্যে কোনো অহংকার নেই। নেই কোনো বড় বহর বা প্রটোকল। একজন সাধারণ মানুষের মতোই তিনি চলাফেরা করেন।
প্রতি শুক্রবার তিনি সদর উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে যান। নামাজ শেষে মুসল্লিদের সাথে বসেন, তাদের সুখ-দুঃখের কথা শোনেন।
শিক্ষা, চিকিৎসা, রাস্তাঘাট, মাদক, জলাবদ্ধতা — যে কোনো সমস্যা নিয়ে যে কেউ তার কাছে যেতে পারে। তিনি মন দিয়ে শোনেন এবং সমাধানের চেষ্টা করেন।
ফতুল্লার একজন প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, “৩০ বছর ধরে ভোট দেই, এমন এমপি কখনো দেখিনি। আগে এমপির কাছে যেতে ভয় লাগতো, এখন মনে হয় নিজের ছেলের কাছে যাচ্ছি।”
সিদ্ধিরগঞ্জের এক যুবক বলেন, “আল আমিন ভাই প্রমাণ করেছেন, এমপি হতে হলে গুন্ডা-পান্ডা লাগে না, মানুষের ভালোবাসাই যথেষ্ট।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আব্দুল্লাহ আল আমিন তরুণ প্রজন্মের জন্য এক নতুন মডেল। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন — ক্ষমতা মানে দাপট নয়, ক্ষমতা মানে মানুষের সেবা করা।
নারায়ণগঞ্জ-৪ এর মানুষ এখন বিশ্বাস করে, তাদের একজন সত্যিকারের অভিভাবক এসেছে।
