ভাইয়ের পাপে বৃথা যাচ্ছে খোরশেদের সব অর্জন
নারায়ণগঞ্জ মেইল: বিগত সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে সবচেয়ে বেশি আন্দোলন সংগ্রাম করা এবং পুলিশের মামলা হামলা নির্যাতনের শিকার হওয়া বিএনপি নেতাদের অন্যতম মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর হিসেবে পরপর চারবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিশাল জনসমর্থন তৈরি করার কারিগরও তিনি। বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা ভাইরাসের সময়ে জীবনের মায়া ত্যাগ করে সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করা মানবতার ফেরিওয়ালা মাসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ রাজনীতিতে পাননি তার যথাযথ মূল্যায়ন। দল ক্ষমতায় এলেও দলীয় পদ-পদবী কপালে জোটেনি তার।
দলের জন্য এত কিছু করার পরেও কিছুই না পাওয়ার পেছনে একমাত্র কারণ হচ্ছে খোরশেদের আপন বড় ভাই তৈমুর আলম খন্দকার। তৈমুরের স্বার্থপর রাজনীতির নির্মম বলি হতে হয়েছে তার ছোট ভাই খোরশেদকে। দলীয় নিয়ম শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে ব্যক্তি স্বার্থের রাজনীতি করার অপরাধে তৈমুরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। সেইসাথে কপাল পোড়ে খোরশেদের। ভাইয়ের পাপের আগুনে পুড়ে যেতে হয় তাকে।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন তৈমুর আলম খন্দকার। ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ায় ২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি তৈমূর আলম খন্দকারকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি। এরপর ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নাজমুল হুদার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। সেই থেকে বিএনপিতে বেইমান হিসেবে পরিচিতি পান তৈমুর। আর তৈমুরের ভাই হয়ে তার প্রায়শ্চিত্ত করতে হয় মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে।
