না:গঞ্জে বহাল তবিয়তে নৌকার দুই চেয়ারম্যান
নারায়ণগঞ্জ মেইল: ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও নারায়ণগঞ্জে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত দুই প্রভাবশালী চেয়ারম্যান এখনো বহাল তবিয়তে চেয়ারে বসে আছেন। তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা ও হামলার মামলা থাকলেও প্রশাসন নির্বিকার। এ নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ।
আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কিছু দিন আত্মগোপনে থাকলে ইদানীং তাকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে।
অপরদিকে, কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত। ফতুল্লার আরেক গডফাদার। তার বিরুদ্ধেও বৈষম্য বিরোধী মামলা রয়েছে৷ নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
এরইমধ্যে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে আবার আওয়ামী লীগ বিরোধী মিছিল করায় মনিরুল আলম সেন্টুর কড়া সমালোচনা করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন। তবুও বহাল তবিয়তে রয়েছে সেন্টু।
সূত্র বলছে, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা ও সদর থানায় বৈষম্যবিরোধী মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলায় তারা এজাহারভুক্ত আসামি।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো – দেশের অন্য সব জায়গায় আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যানরা পলাতক বা অপসারিত হলেও নারায়ণগঞ্জের এই দুই চেয়ারম্যান এখনো নিয়মিত অফিস করছেন, সালিশ করছেন, সরকারি বরাদ্দ নিয়ন্ত্রণ করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে এই দুই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বহু অভিযোগ ছিল। এখন তারা খোলস পাল্টে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে বহাল রয়েছেন।
জেলা প্রশাসন থেকে সব ইউপি চেয়ারম্যানদের কার্যক্রম যাচাই-বাছাইয়ের কথা বলা হলেও বাস্তবে আলীরটেক ও কুতুবপুরে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক সমন্বয়ক বলেন, “যাদের হাতে ছাত্র-জনতার রক্ত লেগে আছে, তারা কিভাবে এখনো চেয়ারে থাকে? আমরা দ্রুত তাদের অপসারণ ও গ্রেপ্তার চাই। অন্যথায় আমরা কঠোর কর্মসূচিতে যাবো।”
এ বিষয়ে জানতে চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ও মনিরুল আলম সেন্টুর মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তারা রিসিভ করেননি।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন – আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ, তাদের এমপি-মন্ত্রীরা পলাতক, তাহলে নৌকার চেয়ারম্যানরা কিভাবে এখনো বহাল তবিয়তে?
