সাগর প্রধানের পর সহিদুল, যুবদলের বিদ্রোহী তালিকা লম্বা হচ্ছে
নারায়ণগঞ্জ মেইল: দীর্ঘদিন ইউনিট কমিটি দিতে না পারার ব্যর্থতা, রাজপথের কর্মীদের অবমূল্যায়ন, কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগসহ নানা কারণে বারবার বিতর্কিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল। এসব কারণে মূল কমিটিতে থাকার পরেও আলাদা ব্যানারে নিজের কর্মসূচি পালন করতেন সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সাগর প্রধান। এসব কারণে মহানগর যুবদলের বিদ্রোহী নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি। এবার তার সাথে যোগ হলো আরো এক পরিক্ষিত যুবদল নেতার নাম। মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সহিদুল ইসলাম মূল কমিটির সাথে কর্মসূচি পালন না করে এককভাবে দলীয় কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন এবং সেই ঘোষণা মোতাবেক বিদ্রোহী হিসেবে কর্মসূচি পালন করে দেখিয়েছেন।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের ৫১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ২ নং সদস্য সহিদুল ইসলাম বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার রয়েছে বিশাল কর্মী বাহিনী এবং আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা। দলীয় এবং জাতীয় যেকোনো কর্মসূচিতে শতশত কর্মী নিয়ে হাজির হতেন তিনি। স্বৈরাচারের মামলা হামলা জেল জুলুম নির্যাতন উপেক্ষা করে রাজপথে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছিলেন তিনি।
রাজপথের এই পরীক্ষিত নেতা মহানগর যুবদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দের খামখেয়ালি আর উদাসীনতার কারণে এবং দীর্ঘদিন কোনো ইউনিট কমিটি না পেয়ে ক্ষোভে দুঃখে এবার বিদ্রোহী খাতায় নাম লিখিয়েছেন। দলীয় যে কোন কর্মসূচি এককভাবে পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। গত 30 সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডিতে এই ঘোষণা দেন তিনি এবং এই ঘোষণা অনুযায়ী ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফরের যাত্রাপথে নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকায় এককভাবে কর্মী সমর্থক নিয়ে শোডাউন করেছেন তিনি।
এর আগে ইউনিট কমিটি না পেয়ে এবং পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের সঠিক মূল্যায়ন না করায় মহানগর যুবদলের অনেক নেতাকর্মী যুবদল ছেড়ে মুল দল এবং অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনে চলে গেছেন। খুবই দুঃখে অনেকে কর্মসূচিতে ঠিকমতো আসেন না তবুও বোধোদয় হয় না মহানগর যুবদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দের। তাই অচিরেই এই বিতর্কিত কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে রাজপথের ত্যাগী নেতাকর্মীদের দিয়ে মহানগর যুবদলের কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ২৯ আগষ্ট মনিরুল ইসলাম সজলকে আহবায়ক, সাগর প্রধানকে সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও সাহেদ আহমেদকে সদস্য সচিব করে ঘোষনা করা হয় মহানগর যুবদলের তিন সদস্যের আহবায়ক কমিটি। প্রায় দেড় বছর তিনজন দিয়ে মহানগর যুবদলের কমিটি চলার পরে ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
দীর্ঘদিন পর মহানগর যুবদলের ৫১ সদস্য আহবায়ক কমিটি গঠিত হলেও আটকে আছে ইউনিট কমিটি গঠনের কাজ। রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়াই নারায়ণগঞ্জ মহানগর ও যুবদলের নেতাকর্মীরা ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে গেছে তবুও হাল ছাড়েনি। আশা ছিলো ৫ আগস্টের পরে তাদের সবগুলো কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবে আর তাদের বহুদিনের কাঙ্খিত রাজনৈতিক পরিচয় মিলবে কিন্তু তাদের ভাগ্যে আর শিকে ছিঁড়ে না। তাদের মনের আশাও পূর্ণ হয় না, রাজনৈতিক পরিচয়ও মিলে না।
২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি মহানগর যুবদলের ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। মূল সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর শুরু হয় ইউনিট কমিটি গঠনের কাজ। এ লক্ষ্যে পরপর বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে কর্মীসভাও অনুষ্ঠিত হয় কিন্তু হঠাৎ করে মাঝপথে এই কার্যক্রম হোঁচট খেয়ে পড়ে। আটকে যায় কর্মী সম্মেলন, বন্ধ হয়ে যায় ইউনিট কমিটি গঠনের কার্যক্রম। নেতাকর্মীদের কাছে যুবদলের পদ পদবী সোনার হরিণ হয়েই রয়েছে।
