নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ: সাখাওয়াত

নারায়ণগঞ্জ মেইল: ননারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, প্রায় ১২০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ আধুনিক কমপ্লেক্সে মাটির নিচে দুই তলা বেজমেন্ট থাকবে। সেখানে প্রায় ৫০০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

‎‎তিনি জানান, নতুন ভবনে আন্তর্জাতিক মানের নাট্যশালা, লাইব্রেরি, সেমিনার কক্ষ, আর্ট গ্যালারি, কমিউনিটি সেন্টার এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য মহড়া কক্ষসহ বিভিন্ন সুবিধা থাকবে। স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাড়ায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘শহীদ জিয়া হল’ ভেঙে একই স্থানে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১ তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণের স্থাপত্য নকশা ও ত্রিমাত্রিক (৩ডি) মডেল আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ‌

‎‎সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “আমার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে চেষ্টা করব, যাতে নারায়ণগঞ্জের নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখা যায়। আমার কোনো দোষ থাকলে আপনারা সমালোচনা করবেন। তবে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভালো কাজের জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব।”

‎‎জিয়া হলের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, “গত সরকারের আমলে এই জিয়া হলটি ভেঙে এখানে হোমটাউন মার্কেট করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু আমরা এই জিয়া হলকে একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যাতে নারায়ণগঞ্জের মানুষ তাদের প্রয়োজন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে এটি যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারেন। সেই লক্ষ্যেই আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি।”

‎‎তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পকে একটি অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ‎প্রস্তাবিত ১১ তলা কমপ্লেক্সে সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সুবিধার পাশাপাশি বড় পরিসরে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকায় নগরবাসীর বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টরা জানান।

‎‎নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনডিএ) চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজিব, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুব উল আলম, প্রধান প্রকৌশলী আজগর হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল ইসলাম সানি, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য ডা. মজিবুর রহমান, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মাঈনুদ্দিন আহমদ, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি ও ভবানী শংকর, জেলা গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী তারিকুল সুজনসহ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।