বিসিকে তিন কুতুব, ইপিজেডে দুই

নারায়ণগঞ্জ মেইল: নারায়ণগঞ্জের তৈরি পোশাক শিল্প সারা পৃথিবী বিখ্যাত। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের ওয়েস্টেজ মালামাল যা স্থানীয়ভাবে ঝুট নামে পরিচিত তা নিয়ে কিছুদিন পরপরই নারায়ণগঞ্জে তুলকালাম কান্ড ঘটে। এসব ঝুটের ঠিকাদারি নিয়ে হামলা মামলা আর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটিতে অবস্থিত বিসিক শিল্পনগরী এবং আদমজী ইপিজেডে অবস্থিত শিল্পাঞ্চলের ঝুট নিয়েই ঝামেলা হচ্ছে বেশি। ৫ আগস্টের পূর্বে নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতারা এসব ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করলেও ৫ আগস্টের পরে তা চলে যায় স্থানীয় বিএনপি ও অন্য সংগঠনের নেতাকর্মীদের দখলে, আর তখন থেকেই শুরু হয় সংঘর্ষের ঘটনা। ফতুল্লার বিসিক এবং আদমজির ইপিজেডে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে এসব সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছেন কতিপয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুসন্ধান জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের বিসিক শিল্প নগরীতে গার্মেন্টস ওয়েস্টেজ বা ঝুট নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় নাম উঠে এসেছে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, ফতুল্লা থানা বিএনপি সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী এবং ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদ এর নাম।

অপরদিকে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডে অবস্থিত গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি গুলোর ঝুট নিয়ে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় উঠে এসেছে মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদ এবং মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুল রহমান সাগরের নাম।

অথচ অনুসন্ধান বলছে, ফতুল্লার বিসিক এবং আদমজির ইপিজেডের ঝুট সেক্টরে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে প্রায় শতাধিক ব্যক্তির নাম। রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিশেষ পেশার লোকজনও এই ঝুটের সাথে জড়িত কিন্তু আলোচনায় উঠে আসছে মাত্র ৫-৬ জনের নাম। আর তাই “বিকেএমইএ” ও “বিজেএমইএ” এ দুটি ব্যবসায়িক সংগঠনের উচিত ঝুট ব্যবসার সাথে কারা কারা জড়িত তাদের নাম প্রকাশ করে দেয়া যাতে করে সকল বিতর্কের অবসান ঘটতে পারে। তাছাড়া অল্প কিছু মানুষের নিয়ন্ত্রণে এত বৃহৎ সেক্টর ফেলে না রেখে তা আরো বড় পরিসরে ভাগ করে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট সকলে।