ক্লিন ইমেজের আড়ালে শাহ আলমের ফ্যাসিস্ট রূপ

নারায়ণগঞ্জ মেইল: নিজেকে ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি দাবী করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ্ আলম। বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও নিজের নির্বাচনী ক্যাম্পে দলীয় থিম সং বাজিয়ে বিএনপি ভোট পেতে অপপ্রচারের অভিযোগ রয়েছে শাহ আলমের বিরুদ্ধে।

বিএনপির দুঃসময়ে দল থেকে পদত্যাগ করা এই নেতা আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দলীয় মনোনয়ন পেতে সক্রিয় হয়ে উঠেন। তবে দল এই সুবিধাবাদি নেতাকে মনোনয়ন না দিলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। বিগত সময়ে কল্যাণ পার্টির নেতা শাহ্ আলম এবারের নির্বাচনে কোটি কোটি খরচ করার মিশনে নেমেছেন। দুঃসময়ে বিএনপির নেতারা আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন তখন শাহ আলম পুরোপুরি ব্যবসায়ী মেজাজে আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে আঁতাত করে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জের গডফাদার হিসেবে পরিচিত শামীম ওসমান ও সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী সাথে ছিল সুসম্পর্ক। শাহ্ আলমের পারিবারিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত দেখা যেত এই দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে।

সম্প্রতি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলমের সঙ্গে বিদেশে পলাতক সাবেক সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠতার একাধিক ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিগুলো ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভাইরাল হওয়া ছবিগুলো জুলাই আন্দোলনের কয়েক মাস পূর্বের। ছবিগুলো শাহ আলমের একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানের, যেখানে দেখা যায়—শামীম ওসমান তার পরিবারসহ উপস্থিত রয়েছেন। শুধু তাই নয়, ওই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, একই অনুষ্ঠানে বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী দাওয়াত পাননি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ছবিগুলো শাহ আলমের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। প্রকাশ্যে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও, পর্দার আড়ালে আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ ও শামীম ওসমান বলয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের—এই অভিযোগ নতুন নয়। তবে এবার দৃশ্যমান প্রমাণ সামনে আসায় সেই অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।

বিশেষ করে, শামীম ওসমান বর্তমানে বিদেশে পলাতক এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সহিংসতা ও দমন-পীড়নের অভিযোগ উঠেছে। এমন একজন নেতার সঙ্গে পারিবারিক ঘনিষ্ঠতা এবং রাজনৈতিক সৌহার্দ্য বজায় রাখা শাহ আলমের তথাকথিত ‘স্বতন্ত্র’ অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন অনেকে।

বিএনপির একাধিক স্থানীয় নেতা মনে করছেন, শাহ আলম আদতে কোনো আদর্শিক রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করেন না। বরং তিনি পরিস্থিতি অনুযায়ী ক্ষমতাসীন বলয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের প্রভাব ও স্বার্থ রক্ষা করার কৌশল অবলম্বন করে আসছেন। দল থেকে বহিষ্কারের পেছনেও এই দ্বিমুখী রাজনৈতিক ভূমিকা বড় কারণ বলে তারা দাবি করছেন।

সব মিলিয়ে, ভাইরাল হওয়া এই ছবিগুলো শুধু একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানের স্মৃতি নয়; বরং নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ‘গোপন মিত্রতা’ ও ‘দ্বৈত ভূমিকা’র একটি স্পষ্ট দলিল হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটের মাঠে শাহ আলমের ‘স্বতন্ত্র’ পরিচয়ের আড়ালে কারা শক্তি জোগাচ্ছে—সে প্রশ্ন এখন আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

নারায়ণগঞ্জ মেইলে এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

সর্বশেষ