টিকে গেলো সাহেদ ঝরে গেলো সজীব, কাঠগড়ায় যুবদল

নারায়ণগঞ্জ মেইল: নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর যুবদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলেও একজনকে সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার করেছে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি তবে একই অভিযোগে অভিযুক্ত অপর নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশের মাধ্যমে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। একই অভিযোগে দুই রকমের বিচার করায় কেন্দ্রীয় যুবদলের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বইছে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে।

ঘটনা সূত্রে প্রকাশ, গত ২১ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক খায়রুল ইসলাম সজীবকে একাধিক চাঁদাবাজির অভিযোগে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের জেলা ডিবি পুলিশ তাকে হেফজতে নেয়। 

প্রথমে সজীবকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্ধ্যায় নেওয়া হয় ঢাকার মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে।

এ দিকে গ্রেপ্তারের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই নানা অনিয়মে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে সজীবকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

২১ জুন রাতে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বহিষ্কৃতদের কোনো অপকর্ম দল নেবে না। যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

অপরদিকে গত ১১ জুলাই নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদের বিরুদ্ধে আদমজী ইপিজেডে একটি ঠিকাদারি কাজ নেওয়াকে কেন্দ্র করে সানজিদা গ্রুপের প্রতিনিধি ফরহাদের সঙ্গে মোবাইল কলের কথোপকোথন একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

প্রচারিত অডিওতে শুনা যায়, সাহেদ অপরপ্রান্তে থাকা ব্যবসায়ীকে অশালীন ভাষায় গালাগালি করছেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছেন। প্রতি উত্তরে ওই ব্যবসায়ী গালিগালাজ করার কারণ জানতে চাইলে সাহেদ আরো উত্তেজিত হয়ে উঠেন।

সাহেদের এই অপকর্মের শাস্তি হিসেবে তাকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিসের উত্তর দিয়ে টিকে যান সাহেদ অথচ এই নোটিশটুকুও পান নাই জেলা যুবদল নেতা খায়রুল ইসলাম সজীব। একই অপরাধে কেন্দ্রীয় যুবদলের দুই রকমের বিচারে ক্ষোভ এবং অসন্তোষ দেখা দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর যুবদলের নেতা কর্মীদের মনে। তারা কেন্দ্রীয় সংসদের কাছে সব সময় ন্যায় বিচার আশা করেন।