আইভীর কণ্ঠে বিএনপি সরকারের প্রশংসা, রহস্যের গন্ধ

নারায়ণগঞ্জ মেইল : দীর্ঘ ১৩ মাস পর কারামুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী সেলিনা হায়াত আইভীর গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। বক্তব্যে বিএনপি সরকার এবং বিচার বিভাগের প্রশংসা করেন আইভী। আর এতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সেই সাথে রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের রহস্য সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ গঠনে আইভীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে।

কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সেলিনা হায়াত আইভি বলেছেন, আমি বিচার বিভাগে ও সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি আশা করি সবাইকে নিয়ে মানবিক সরকার গঠিত হোক।

আইভীর এমন বক্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আইভীকে আওয়ামী লীগ ভাঙ্গার নেপথ্য কারিগর হিসেবে উল্লেখ করে পোস্ট দিতে থাকেন। সেই সাথে আইভীর এই আচরণে হুঁশিয়ারি জানান তারা। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে মাইনাস করে আওয়ামী লীগ গঠনের চেষ্টা করা হলে আইভীকে এর করা মাশুল দিতে হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, যে বিচার ব্যবস্থায় শেখ হাসিনাকে ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছে, লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীকে মামলা দেয়া হয়েছে, হাজার হাজার নেতাকর্মী জেল খাটছে সেই বিচার ব্যবস্থার প্রশংসা করে আইভী আওয়ামী লীগে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। তার এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় তিনি আওয়ামী লীগ ভাঙ্গার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জের ছাত্রলীগ নেতা সোহানুর রহমান শুভ্র তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন “মুজিব পরিবার ও আওয়ামী লীগ নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলার অবৈধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চক্রান্তের অংশ হিসেবে সেলিনা হায়াত আইভি মুক্তি পেয়েছেন। তিনি বাম নেতা রফিউর রাব্বি ও অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুমকে পাশে বসিয়ে তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে সবাইকে নিয়ে একটি মানবিক সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। যে সরকার আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসির আদেশের ব্যবস্থা করেছে, জেলখানায় স্লো পয়জনিংয়ের মাধ্যমে আমাদের দলের প্রায় ২০০-৩০০ নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে, সারাদেশে প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা, ধর্ষণ এবং তাদের বাড়িঘর লুট করেছে, শেখ হাসিনা বিরোধী বাম নেতাদের পাশে বসিয়ে সেই ক্যাঙ্গারু বিচারব্যবস্থার সরকারকে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আপনারা এটিকে সমর্থন করতে পারেন, কিন্তু আমরা এটিকে গভীর চক্রান্তের অংশ হিসেবেই দেখছি। ১৯৭১ সালেও তাঁর বাবা দলবল নিয়ে মুচলেকা দিয়ে পালিয়েছিলেন, আর আজ তিনিও মুচলেকাবদ্ধ মেয়র হিসেবে বাড়িতে ফিরেছেন। হয়তো তাঁর নজর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের পদে। শিয়ালের নজর যেমন জীবিত মানুষের দিকে থাকে, তেমনি। এমনিই লিখলাম, আপনারা আবার অন্য কিছু মনে করবেন না।”

উল্লেখ্য, বুধবার (৩ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে বারোটায় নগরীর দেওয়া ভোগে অবস্থিত চুনকা কুটিরে নিজ বাসভবনে পৌঁছে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।  এর আগে বেলা দশটায় তিনি গাজীপুরের কাশিমপুরের মহিলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। তার বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যার ১২ টি মামলা রয়েছে।