নারায়ণগঞ্জ মেইল: সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়নগঞ্জ-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এডভোকেট আবুল কালাম। জামায়াত জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী সিরাজুল মামুনের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে বিজয়ী হন তিনি।
এডভোকেট আবুল কালামের বিজয়ে আলোচনা যেমন হচ্ছে তেমনি সমালোচনাও কম হচ্ছে না। বিশেষ করে বিগত স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের আমলে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম না করে অসুস্থতার অজুহাতে ঘরে বসে থেকে তার এমপি হয়ে যাওয়ায় অনেকেই অবাক হয়েছেন, যার রেশ এখনো কাটছে না।
তৃণমূল সুত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি এডভোকেট আবুল কালাম ও তার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের বিস্তার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিগত সরকারের আমলে নেতাকর্মীরা যখন সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন তখন কালাম পরিবারের লোকজন সরকারি দলের এমপিদের সাথে মিলে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। সরকার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে পাওয়া না গেলেও সরকারি দলের এমপি-মেয়রদের সাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রায়ই তাদেরকে দেখা যেত।
সূত্র মতে, ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি হন এডভোকেট আবুল কালাম। এরপর থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামকে রাজপথ থেকে তুলে নিয়ে তার বাড়ির চার দেওয়ালে বন্দী করে ফেলেন তিনি ও তার পুত্র আবুল কাওসার আশা। অন্যান্য সংগঠন যখন রাজপথে মিটিং মিছিল করেছে তখন আবুল কালামের মহানগর বিএনপি কালামের বাড়ির চার দেওয়ালের ভিতরে দায়সারা অনুষ্ঠান করেছে।
মহানগর বিএনপির সেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার সময় কালামপুত্র কাউসারকে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ দেয়া হয়। এছাড়াও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন আশা। দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামের পরিবর্তে সরকার দলীয় এমপি-মেয়রদের সাথেই তার সময় বেশি কাটতো। আর এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করতো তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনে।
তাছাড়া অ্যাডভোকেট আবুল কালাম অসুস্থতার অজুহাতে বিগত সরকারের সময় আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথের পরিবর্তে নিজের বাড়িতেই সময় কাটিয়েছেন। দুর্যোগপূর্ণ সময় গুলোতে তিনি হয় হাসপাতালে না হয় বিদেশে চলে গিয়েছেন। অনেক সময় তাকে দেখা গেছে হুইলচেয়ারে করে চলাফেরা করতে কিন্তু ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তিনি রীতিমতো সুস্থ হয়ে রাজনীতির ময়দানে ফিরে আসেন।
অপরদিকে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের হামলা মামলা নির্যাতন সহ্য করেও যারা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করে গেছেন সেসব ত্যাগী নেতা দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে আন্দোলনে ঘরে বসে থাকা লোককে এমপি হতে দেখলেন, যা তাদের হৃদয় রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
