আওয়ামী ঘনিষ্ঠতায় ছিটকে গেলেন মডেল মাসুদ!

নারায়ণগঞ্জ মেইল: নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ ওরফে মডেল মাসুদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই আকস্মিক ঘোষণা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে আলোচনা সমালোচনা। তবে রাজনীতি সংশ্লিষ্টদের মতে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী এমপিদের সাথে মডেল মাসুদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই তারেক রহমান তাকে ছুঁড়ে ফেলেছেন। প্রার্থী তালিকার স্বচ্ছতা ফেরাতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারেক রহমান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করছেন সকলে।

সূত্র মতে, গত ৩ নভেম্বর সারাদেশের ২৩৭টি এবং ৪ ডিসেম্বর আরো ৩৬ নির্বাচনী আসনের প্রাথমিক মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ করেন দলের মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে প্রাথমিক মনোনয়ন পান শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় বিএনপির তৃণমূলে। দীর্ঘ ১৭ বছর স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ ওরফে মডেল মাসুদকে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করায় ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা। তাছাড়া বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে মডেল মাসুদের বিভিন্ন সময়ের ছবি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।  মডেল মাসুদের এসব ছবিতে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে নেতাকর্মীদের।

সূত্র জানায়, মডেল মাসুদের এই কুকীর্তির দালিলিক প্রমাণপত্র ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে বিষয়টিকে ভালোভাবে দেখছে না বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও।

তৃণমূলের মতে, গত ১৭ বছরের আন্দোলন সংগ্রামে একদিনের জন্যও রাজপথে দেখা যায়নি মডেল মাসুদকে। বরং সে সময়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী এমপিদের সভা সমাবেশে প্রায়ই দেখা মিলেছে তার। দুঃসময়ের আন্দোলন সংগ্রামে যখন সারা দেশে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে তখন মাসুদুজ্জামান মাসুদ পুরোপুরি ব্যবসায়ী মেজাজে আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে পাল্লা দিয়ে সমান তালে ব্যবসা করেছেন, কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।

গত ১৭ বছরে সারাদেশে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা সরকারের মামলা হামলায় জর্জরিত হলেও মডেল মাসুদকে কোনদিন পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ বিরক্ত করেনি। দলের দুঃসময় কেটে যাওয়ায় মঞ্চে আবির্ভূত হয়েছেন এই ব্যবসায়ী। আওয়ামী লীগের আমলে কামানো কোটি কোটি টাকা নিয়ে নেমে পড়েছেন মনোনয়ন কেনার প্রতিযোগিতায়।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের দোসর শিল্পপতি মাসুদকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তারা মেনে নিতে পারেননি। তাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। এতো বছর যারা রাজপথে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের মধ্য থেকে একজনকে দলীয় মনোনয়ন দিতে হবে।  বিগত দিনে যারা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদেরকেই দলীয় মনোনয়ন দিতে হবে। যারা আওয়ামী লীগ আমলে মামলা হামলা খায়নি, আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে মিলেমিশে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন আর মোটা টাকার মালিক হয়েছেন, তাদেরকে  ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মানবেন না তারা তাই অবিলম্বে এই ঘোষণা পরিবর্তন করে রাজপথ থেকে মনোনয়ন ঘোষণার দাবি তৃণমূলের।

নারায়ণগঞ্জ মেইলে এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

সর্বশেষ