নারায়ণগঞ্জ মেইল: নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি সমর্থক জোট প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমী তার ছেলের বয়সী এনসিপি প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিনের কাছে পরাজিত হয়েছেন। কাসেমীতে পরাজয় সমালোচনার চর বয়ে যাচ্ছে ফতুল্লার রাজনীতিতে। এখানকার বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন মুফতি মনির হোসেন কাসেমীর পরাজয়ের পেছনে রয়েছে দুটি কারণ। এর একটি হচ্ছে বিএনপির একাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপির ভোট ভাগ হয়ে যাওয়া এবং আরেকটি হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বিতর্কিত লোকদেরকে নিয়ে কাসমীর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া।
নির্বাচনের পোস্টমর্টেম শেষে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী আসন হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন। ফতুল্লা থানার পাঁচটি ইউনিয়ন এবং সদর থানার দুটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছে এই আসনটি। এই আসনে বিএনপি তাদের ধানের শীষ প্রতীকে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি বরং তাদের শরীক দল জমিয়তে ওলামা ইসলামকে আসনটি ছেড়ে দেয়। এই আসনে জমিয়ত মনোনয়ন দেয় মুফতি মনির হোসেন কাসেমীকে।
একই আসনে সাবেক তিন বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি মোঃ গিয়াসউদ্দিন, সাবেক এমপি ও ব্যবসায়ী নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী এবং জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ শাহ আলম এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন কিন্তু মনোনয়ন লাভে ব্যর্থ হয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন।
এই তিন হেভিওয়েট নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামা ইসলাম দলের মুফতি মনির হোসেন কাসেমী নির্বাচনের আগে কোণঠাসা হয়ে পড়েন। এই আসনে বিএনপির ভোট চার ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় আর এর পূর্ণ সুবিধা চলে যায় জামায়াত নেতৃত্বাধীন দশ দলীয় জোট মনোনীত এনসিপির প্রার্থী এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিনের ঘরে। বিএনপি’র এই বিভক্তির কারণে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যায় এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিনকে।
নির্বাচনের আগে বিতর্কিত নেতাকর্মীদেরকে সাথে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর কারণেও অনেক ভোটার জোট প্রার্থীর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ইতিপূর্বে যারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে দল থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন তাদেরকে ফিরিয়ে আনায় কাশেমীর ভোট অনেক কমে গেছে বলে ধারণা তাদের।
