প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামের বিবৃতি

নারায়ণগঞ্জ মেইল: অনলাইন নিউজ পোর্টাল নারায়ণগঞ্জ মেইল ডটকম সহ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় “রূপগঞ্জে আদালতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের অভিযোগ” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে লিখিত বিবৃতি প্রদান করেছেন অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন “রূপগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের অভিযোগ”- শিরোনামে ১৮/০৬/২৬ তারিখে একটি নিউজ প্রকাশিত হয়। যাহা আমার দৃষ্টি গোচরীভূত হয়েছে।  উক্ত নিউজের প্রেক্ষিতে প্রকৃত সত্য তথ্য নিম্নে তুলে ধরা হলো:-

১। রূপগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাফ কবলা দলিল নং- ৩৭৯৫, তারিখ- ২৭/৫/২৪ মূলে খাদুন মৌজার আর এস দাগ নং-৭৭৪ এ ৩.৫০ শতাংশ জমি আমি গ্রহীতা জহিরুল ইসলাম খরিদসূত্রে মালিক হলে দাতাপক্ষ আমাকে যথানিয়মে উক্ত জমির দখলস্বত্ব বুঝাইয়া দেন। অত:পর আমি উক্ত জমির জমা খারিজ সম্পন্ন করে নিজ নামে পৃথক খতিয়ান নং- ২৪২৭ সৃজন করে হাল সন পর্যন্ত সরকারি খাজনাদি পরিশোধক্রমে প্রায় দুই বছরের অধিককাল যাবত উক্ত জমিতে ভোগ দখলে রয়েছি। আমি উক্ত জমি ক্রয়ের পর ২০২৪ সালে বালু দ্বারা ভরাট করে ২০২৫ সালে উক্ত জমিতে টিনসেড বিল্ডিং নির্মানের কাজ শুরু করি। আমার টিনসেড বিল্ডিং নির্মানের কাজ শেষ হবার পর দীর্ঘ ০২ বছর পর মোস্তফা মনোয়ার ভূইয়া শাওন তার ফ্যাক্টরীর কয়েকজন অজ্ঞাত ছেলে পাঠিয়ে আমাকে অন্যায়ভাবে বাধা প্রদান করে।  তিনি উক্ত স্থানে জমি পাবে বলিয়া রূপগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাযের করে। থানার ওসি সাহেব উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই করিয়া আমার কাগজ সঠিক পান। পক্ষান্তরে তার দাখিলীয় কাগজপত্রে কোন ধারাবাহিক মিল না থাকায় এবং তার দলিলটি ১৯৯৬ সালে সৃজন হলেও উক্ত দলিলে আর এস ৭৭৪ দাগটি না থাকায় এবং তার কোন খাজনা খারিজ বা মিউটেশন না থাকায় তাকে দেওয়ানী আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ প্রদান পূর্বক তার অভিযোগটি নথিভূক্ত করেন। তিনি দেওয়ানী আদালতে না গিয়ে আমাকে হয়রানী করার জন্য বিজ্ঞ এডিএম কোর্ট নারায়নগঞ্জে ১৪৫ ধারায় একটি পিটিশন কেইস দায়ের করেন। শুধু তাই নয়, তিনি রূপগঞ্জ আমলী আদালতে একটি কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়ে আমার বিরুদ্ধে সিআর ৬১৯/২৬ কেইস দায়ের করেন। দুটি কেইস ই বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

২। আমি জহিরুল ইসলাম কাহারো জমি জোরপূর্বক দখল করি নাই। আমি বৈধভাবে উক্ত জমি ক্রয় করিয়া উহাতে শান্তিপূর্নভাবে ভোগদখলে থাকাবস্থায় মোস্তফা মনোয়ার ভূইয়া শাওন অন্যায় লাভের উদ্দেশ্য আমাকে উক্ত জমি হতে উৎখাতের জন্য একের পর এক হুমকি ধামকি প্রদানসহ নানাভাবে আমাকে নাজেহাল ও হয়রানী করে আসছেন। আমার দাতাপক্ষ হান্নান, মোবারক ও আব্দুল হালিম গং দীর্ঘ ৭০ বছরের অধিককাল যাবত উক্ত জমিতে ভোগ দখলে ছিলেন। পক্ষান্তরে মোস্তফা মনোয়ার ভূইয়া শাওন অথবা তার পিতা কস্মিনকালেও উক্ত জমিতে ভোগ দখলে ছিলেন না। উক্ত জমির আশেপাশে থাকা স্থানীয় নিরপেক্ষ জনসাধারণকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে উহার প্রকৃত সত্যতা জানা যাবে।

৩। মোস্তফা মনোয়ার ভূইয়া শাওন নিজেকে বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে পেশিশক্তি দেখিয়ে উক্ত এলাকায় আমার মতো আরো অনেকের জমি জোরপূর্বক গ্রাস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। যাহা স্থানীয়ভাবে তদন্ত করা হলে সত্যতা পাওয়া যাবে।

৪। মোস্তফা মনোয়ার ভূইয়া শাওন বিজ্ঞ এডিএম কোর্টে ১৪৫ ধারার পিটিশন কেইস দায়ের করেছেন চলতি ২০২৬ সনের জুন মাসে।  আর আমি উক্ত জমিতে নির্মান কাজ শুরু করেছি ২০২৫ সালে। সুতরাং ইহা থেকেই প্রমাণিত হয় যে আমি বিজ্ঞ কোর্টের কোন আদেশ অমান্য করি নাই। তাছাড়া বিজ্ঞ কোর্ট হতে অদ্যাবধি পর্যন্ত উক্ত জমিতে কোন নিষেধাজ্ঞা বা স্ট্যাটাসকো জারী করা হয়নি। যুক্তি তর্ক শুনানী ও বিচারান্তে বিজ্ঞ কোর্ট যে আদেশ প্রদান করিবেন আমি উক্ত আদেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও অনুগত থাকিতে সদা সর্বদা প্রস্তুত আছি।

এ বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদটি নিম্নে উপস্থাপন করা হলো:

রূপগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের অভিযোগ

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ পরিদর্শক ও স্থানীয় এক ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ভুক্তভোগী মো. মোস্তফা মনোয়ার ভূঁইয়া একাধিক মামলা করেও সুফল পাচ্ছেন না। বরং আদালতের ১৪৫ ধার আদেশ অমান্য করে জোরপূর্বক নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম ও সাবেক এমপি গাজীর সহযোগী স্থানীয় ভূমিদস্যু মোবারক।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, রূপগঞ্জ থানার খাদুন মৌজার জেএস খতিয়ান নং-৭৪, দাগ নং-৭১৪ ও ৭৪৯ নম্বর জমি নিয়ে মো. মোস্তফা মনোয়ার ভূঁইয়া বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ এড়াতে আদালত ১৪৫ ধারা জারি করেন। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম ও মোবারককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের নোটিশে বলা হয়, বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কার্যক্রম থেকে উভয় পক্ষকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত উভয় পক্ষকে আগামী ১/০৮/২০২৬ তারিখে হাজির থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ১৪৫ ধারায় মামলা হলে আদালত সাময়িকভাবে জমির শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৫ ধারা জারি করে থাকেন। এতে জমির দখল-স্বত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় না, শুধু বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখা হয়।

তবে আদালতের আদেশকে তোয়াক্কা না করেই জোরপূর্বক নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন অভিযুক্তরা।

জানা গেছে, জহিরুল ইসলাম রূপগঞ্জ থানায় কর্মরত থাকাকালীন ভূমিদস্যু মোবারকের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে তিন শতাংশ জমি নামমাত্র মূল্যে ক্রয় করেন। জহিরুল বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

রূপগঞ্জের সাবেক এমপি গাজীর সহযোগীদের ঘনিষ্ঠ মোবারক বিগত সময়ে ভুক্তভোগী মোস্তফাকে বিভিন্নভাবে চাপের মুখে রেখেছিলেন। মোবারক ভূমিদস্যুতার পাশাপাশি এলাকায় মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। এরই মধ্যে ইয়াবা সেবনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।